উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম আলো ভবনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলো’ পরিদর্শনে এসেছিলেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক আফসানা মিমি। বুধবার সকালে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রদর্শনীর প্রতিটি তলা ঘুরে দেখেন। এক সময়ের কর্মচঞ্চল ও ঝকঝকে অফিসটি আজ পোড়া দেয়াল আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
পুরো ভবনটি ঘুরে দেখার সময় আফসানা মিমি সেই নির্দিষ্ট স্থানগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, যেখানে বসে তিনি একসময় কাজ করেছেন বা আড্ডা দিয়েছেন। চরকি কার্যালয়ের সেই পুরনো স্মৃতি আর বর্তমানের ভস্মীভূত বাস্তবতার বৈপরীত্য দেখে তিনি বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পোড়া কম্পিউটার, গলিত প্লাস্টিক আর ছাই হয়ে যাওয়া বইপত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেন।
শিল্পী মাহবুবুর রহমানের সৃজনে তৈরি এই প্রদর্শনী সম্পর্কে আফসানা মিমি বলেন, “সকল আঘাতের বিপরীতে শিল্পীরা এভাবেই সৃজন ও আলো দিয়ে রুখে দাঁড়ান।” অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি আরও যোগ করেন, ধ্বংসের মাঝেও শিল্পী দেখিয়েছেন যে সত্য ও স্মৃতিকে পুড়িয়ে মুছে ফেলা যায় না। এই প্রদর্শনীটি কেবল ধ্বংসের স্মারক নয়, বরং এটি সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষ্য এবং বিবেকের আয়না হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঠকরা এই বিশেষ স্মারক প্রদর্শনীটি দেখার সুযোগ পাবেন। এর আগে সরকারের প্রতিমন্ত্রী, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেছেন।