নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’-এ ‘অনন্যা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। গল্পের চরিত্রটি কখনো গ্রাম বা দুর্গম এলাকায় যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে একজন নারীর মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, সেটি বোঝার জন্য তিনি আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। মিমের ভাষ্য, দুর্গম পথে বাইকে যাতায়াত, কঠিন লোকেশনে শুটিং এবং বাস্তব পরিবেশের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে চরিত্রটির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হতে সাহায্য করেছে। প্রথমদিকে ভয় পেলেও পরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবের সেই অভিজ্ঞতাগুলো পর্দায় অভিনয়কে আরও স্বাভাবিক করে তুলেছে।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মালিক’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও নির্মাণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মিম বলেন, প্রত্যাশা নিয়ে কোনো কাজে যুক্ত হলেও সব সময় ফলাফল মনমতো হয় না। এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক হলেও তিনি সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক। ভালো গল্প পেলেও যদি মনে হয় নির্মাতা সেটি যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারবেন না, তাহলে সেই প্রকল্পে যুক্ত হন না। তাঁর মতে, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে অনেক সময় বড় ধরনের পার্থক্য থেকে যায়, যা শিল্পীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দীর্ঘ সময় পর্দায় কম দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিম বলেন, কাজের প্রস্তাবের অভাব ছিল না। তবে মনের মতো প্রকল্পের অপেক্ষা করতে গিয়েই গত দুই বছরে কোনো কাজ করেননি। তিনি এমন কাজ করতে চান, যা দর্শকের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে ‘লাইফলাইন’-এর মতো ভিন্নধর্মী গল্পের আরও কয়েকটি কাজ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান অভিনেত্রী।

দেশের বিনোদন অঙ্গনের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন মিম। তাঁর মতে, বর্তমানে সিনেমা ও ওটিটির বাজেট আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে সিনেমার সংখ্যা কমে যাওয়ায় কাজের সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা তথাকথিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পী ও কলাকুশলীরাই বেশি সুযোগ পান। তবে তিনি কখনোই এসব গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন না এবং নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে মনে করেন।

ছোট পর্দার বর্তমান অবস্থা নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন মিম। তিনি বলেন, একসময় টেলিভিশন নাটক ছিল পারিবারিক বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। সন্ধ্যার পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে নাটক দেখতেন। কিন্তু এখন কাজের ধরন অনেক দ্রুত বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে জনপ্রিয়তা যেমন দ্রুত আসছে, তেমনি দ্রুত হারিয়েও যাচ্ছে। তবু দীর্ঘদিন পরও দর্শকের ভালোবাসা ধরে রাখতে পারাকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন তিনি।

নাটকে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিম জানান, বর্তমান নাটকের গল্প ও নির্মাণধারা তাঁকে খুব একটা আকৃষ্ট করে না। তাঁর মতে, এখন অনেক ক্ষেত্রেই ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে মানসম্মত কাজের সংখ্যা কমে গেছে। তবে ভালো বাজেট, শক্তিশালী গল্প এবং বড় পরিসরের কোনো প্রকল্প এলে ভবিষ্যতে নাটকে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

একসময় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকা মিম জানান, বর্তমানে নিয়মিত বই বা গল্প লেখেন না। তবে ব্যক্তিগত ডায়েরিতে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা লিখে রাখেন। বই পড়ার অভ্যাস এখনো রয়েছে এবং বিদেশ সফরে গেলে বই কেনার চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবার লেখালেখিতে ফিরতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে মিম বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো কাজ ও পরিবার। কাজের সময় তিনি পুরো মনোযোগ কাজেই দেন, আর অবসর পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। বাইরের আড্ডা বা সামাজিক আয়োজনের চেয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ঘোরাঘুরি প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়মিত ভ্রমণের ছবি শেয়ার করতে দেখা গেলেও এর বেশির ভাগই কাজের সূত্রে। মালদ্বীপে বহুবার গেলেও কেবল একবার ব্যক্তিগতভাবে হানিমুন উপলক্ষে সেখানে গিয়েছিলেন। বাকি সফরগুলো ছিল ব্র্যান্ড প্রচারের অংশ। তবে কাজের ফাঁকেও সময়টুকু উপভোগ করার চেষ্টা করেন তিনি। মজার ছলে বলেন, ভ্রমণের সময় ছবি তুললেও সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট করেন না; বাড়ি ফিরে অবসরে বসেই ধীরে ধীরে সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।