দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের জুটি মানেই যেন টলিউডপ্রেমীদের কাছে পুরনো দিনের নস্ট্যালজিয়া। একসময় প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এই দুই তারকা। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে গেলেও তাদের নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কমেনি। বরং বহুদিন ধরেই ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল, আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে দেব ও শুভশ্রীকে।

সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে ‘দেশু ৭’ সিনেমার হাত ধরে। সিনেমাটির শুটিং শেষ হওয়ার পর শুভশ্রী যেমন পরিচালক দেবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন, এবার অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লিখলেন দেবও।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দেশু ৭’-এর শুটিংয়ের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন দেব। সেখানেই শুভশ্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন অভিনেতা ও পরিচালক।

দেব জানান, প্রথমবার সিনেমা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার চারপাশে ছিল অনেক অনিশ্চয়তা। সেই পরিস্থিতিতেও শুভশ্রী তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চিত্রনাট্য, সিনেমার নাম কিংবা গল্প শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, এসব না জেনেও ‘দেশু ৭’-এ কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন অভিনেত্রী।

দেবের কথায়, শুভশ্রীকে তিনি বহুদিন ধরে চেনেন। কিন্তু এই সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিনেত্রীকে যেন নতুন করে চিনেছেন। অভিনেত্রী হিসেবে শুভশ্রীর বিকাশ যেমন তাকে মুগ্ধ করেছে, তেমনি একজন মানুষ হিসেবে তার পরিবর্তনও প্রশংসা কুড়িয়েছে দেবের।

পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে শুভশ্রী যেভাবে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন, সেটিও দেবের কাছে অনুপ্রেরণার। এতটা পথ এগিয়ে যাওয়ার পরও তার মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতার প্রশংসা করেছেন দেব।

একইসঙ্গে ‘দেশু’ জুটির প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা ধরে রাখার জন্য শুভশ্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভবিষ্যৎ জীবন ও কাজের জন্যও শুভকামনা জানিয়েছেন দেব।

দেবের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন ভক্তরা। অনেকেই পুরনো দেব-শুভশ্রী জুটির স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘এরা যদি একসঙ্গে থাকত!’ আবার অনেকেই তাদের ফের একসঙ্গে পর্দায় দেখার অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন।

‘দেশু ৭’-এর শুটিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির ডাবিংয়ের কাজ চলছে। দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিনেমাটির।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় দেব ও শুভশ্রীর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী। সিনেমাটির একটি আইটেম গানেও দেখা যাবে ইধিকা পালকে।