এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরছেন বরেণ্য চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও প্রত্যাশিত শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় আপাতত কিছুদিনের জন্য তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় আজ সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। তবে এই সফর স্থায়ী নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী সপ্তাহেই আবার লন্ডনে ফিরতে হবে তাঁকে। কারণ, আগামী ১৫ আগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্টভাবে নজরে আসে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও শারীরিক অসুস্থতার প্রভাব তাঁর চেহারায় ফুটে উঠেছে। এ বিষয়ে লিটন এরশাদ জানান, পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসার ফল আশানুরূপ হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের কনফিডেন্স লেভেলটা অনেকটাই কমে এসেছে। তাঁর পরিবার লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। কাঞ্চন ভাই নিজেও দেশে ফেরার জন্য খুবই ব্যাকুল ছিলেন। তাই পরিবারের সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুদিনের জন্য তাঁকে দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।”
জানা যায়, গত বছরের শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শরীরে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এরপর পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়। প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। টানা তিন মাস বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তাঁর মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
দীর্ঘ এই চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে। পরিবারের আশা, দেশে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর পর আবারও লন্ডনে ফিরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর সুস্থতা কামনায় ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও প্রার্থনা করছেন।