ফাল্গুনের আগুনে জ্বলে ওঠা এক অমর রাজপথের নাম জহির রায়হান। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যেমন তুলে ধরেছেন ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা, তেমনি কলমের ধারালো আঁচড়ে আঁকছেন শোষিত মানুষের জীবনচিত্র। আজ ১৯ আগস্ট, গুণী এই কথাসাহিত্যিক ও বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্মবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই আলোকবর্তিকাকে।

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। সাংবাদিকতা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও দ্রুতই নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন উপন্যাস ও চলচ্চিত্রে। ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘আরেক ফাল্গুন’ ও ‘হাজার বছর ধরে’-র মতো কালজয়ী উপন্যাস উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য ১৯৬৪ সালে পান মর্যাদাপূর্ণ আদমজী সাহিত্য পুরস্কার।

১৯৬১ সালে ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। পরবর্তীতে ‘সঙ্গম’, ‘বাহানা’, ‘কাঁচের দেয়াল’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’-র মতো মাস্টারপিস সিনেমা নির্মাণ করে ঢাকাই চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দেন এক অনন্য উচ্চতায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে তাঁর নির্মিত ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে জহির রায়হান বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের তালিকা ও প্রমাণের অনুসন্ধান শুরু করেন। তবে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে মিরপুরে গিয়ে বিহারি ও পাকিস্তানি সৈন্যদের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুর পর আর তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিল্পের ক্যানভাসে বিপ্লবের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই মহান শিল্পী তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।