তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে এবার রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী আরও তিন সাবেক রাজ্যসভা সদস্যকে বিজেপি একইভাবে প্রার্থী করার পর কোয়েলকেও সেই আসনে ফেরানোর জল্পনা চলছিল। রোববার (৪ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর নাম ঘোষণা করে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলে ভাঙন শুরু হলে গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল। সেখানেই নিজের রাজ্যসভা সদস্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাষষ্ঠীর দিন তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কোয়েলের আগে তৃণমূলের তিন রাজ্যসভা সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করেন। পরে তাঁদের তিনজনকেই বিজেপি রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করে। তৃণমূলের পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল।

এবার একই ধারাবাহিকতায় তৃণমূলের পদ ছেড়ে দেওয়া চতুর্থ রাজ্যসভা সদস্য কোয়েল মল্লিককেও নিজেদের টিকিটে প্রার্থী করল বিজেপি। রোববার দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

কোয়েলের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর পদত্যাগের পরপরই। ১৬ জুলাই সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এর পরই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় তৃণমূলের কয়েকজন ‘বিদ্রোহী’ রাজ্যসভার সদস্যেরও ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছিল বলে জানা যায়।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। তাঁর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সাবেক ডিজি রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর নামও ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্চে রাজ্যসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। তবে কোনো সংসদীয় অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি।

এবার তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন কোয়েল। ফলে তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে।