বলিউডে বয়সভিত্তিক কাস্টিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বয়স, চরিত্রের ধরন এবং পর্দায় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা প্রায়ই দেখা যায়। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী মৌনী রায়।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ ছবিতে ৪০ বছর বয়সী মৌনী রায় অভিনয় করেছেন ৩৯ বছর বয়সী বরুণ ধাওয়ানের ‘মা’ চরিত্রে। যদিও গল্পে তিনি বরুণের জৈবিক মা নন, বরং ‘ভুয়া মা’। তবুও ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অনেকের প্রশ্ন ছিল, বাস্তব জীবনে প্রায় সমবয়সী দুই শিল্পীকে মা-ছেলের ভূমিকায় দেখানোর প্রয়োজন কী ছিল? তবে এসব সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি মৌনী।
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এসব সমালোচনা নিয়ে ভাবিনি। মানুষ কী বলছে, সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা ছিল না। আমি জানতাম ছবিতে আমি কী করেছি। আমার পরিচালক খুশি ছিলেন, সহশিল্পীরাও খুশি ছিলেন। সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট।’
তবে মজার বিষয় হলো, চরিত্রটির প্রস্তাব প্রথম শুনে মৌনী নিজেও কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাব্রা যখন তাঁকে জানান যে তিনি বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন, তখন তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়াও ছিল অবাক হওয়ার।
মৌনী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি প্রথমে বলেছিলাম, “বরুণের মা?”’ পরে পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান ও সংলাপ লেখক ফরহাদ সামজি তাঁকে পুরো গল্পটি বুঝিয়ে বলেন। গল্প শোনার পরই তাঁর ধারণা বদলে যায়।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমি এত হাসছিলাম যে থামতেই পারছিলাম না। পুরো বিষয়টাই ছিল কমেডির অংশ। এখানে “মা” পরিচয়টি মূলত গল্পের একটি মজার উপাদান।’
ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে কাজ করাও তাঁর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। নব্বইয়ের দশকে নির্মাতার জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্রের ভক্ত ছিলেন মৌনী। তাই তাঁর পরিচালনায় কাজ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি।
মৌনী জানান, ডেভিড ধাওয়ান তাঁকে বলেছিলেন, এটি তাঁর শেষ পরিচালিত চলচ্চিত্রও হতে পারে। সেই কারণেও ছবিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘নাগিন’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া মৌনী রায় পরে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ‘গোল্ড’ ছবিতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় এবং ‘ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান-শিবা’তে ‘জুনুন’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান।
নতুন ছবিতে তাঁর চরিত্র নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মৌনীর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত দর্শক গল্প এবং বিনোদনকেই গুরুত্ব দেবেন।