বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী Nazmun Munira Nancy দীর্ঘদিন পর নতুন একটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করলেও দেশের সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, প্লেব্যাকের সুযোগ কমে যাওয়া, অডিও ইন্ডাস্ট্রির স্থবিরতা এবং কনসার্টের সংকট মিলিয়ে দেশের সংগীতাঙ্গন বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে।
সম্প্রতি Shikar সিনেমার জন্য শিল্পী Imran Mahmudul-এর সঙ্গে একটি রোমান্টিক দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ন্যান্সি। গানটি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও নিয়মিত প্লেব্যাকে ফিরেছেন এমন ধারণা নাকচ করেছেন তিনি।
ন্যান্সির ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকের ধারণা তাঁর কাজ বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গত দুই বছরে তিনি মাত্র দুটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। এর মধ্যে Dam সিনেমার জন্য গাওয়া একটি গান শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়নি, শুধু ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে। আর এবার তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন ‘শিকার’ সিনেমার জন্য।
প্লেব্যাকের সুযোগ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দেশে বাণিজ্যিক সিনেমার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বর্তমানে মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সংখ্যা খুবই সীমিত। অন্যদিকে নতুন ধারার অনেক সিনেমায় গান রাখার প্রচলনও কমে গেছে।
এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি, কণা আর কোনালের পর আরেকজন নিয়মিত নারী প্লেব্যাক শিল্পী দেখান। ইমরানের পর আরেকজন নিয়মিত পুরুষ প্লেব্যাক গায়কও দেখাতে পারবেন না। আমরাই কি তাহলে প্লেব্যাকের শেষ প্রজন্ম হতে চলেছি?’
শুধু চলচ্চিত্রের গান নয়, অডিও গানের বাজার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি তাঁর নতুন গান ‘এ শহর জানে’ প্রকাশ পেলেও তিনি মনে করেন, এখন আর আগের মতো গান তৈরি হচ্ছে না। বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন গানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে অনেক শিল্পীর নতুন গান প্রকাশের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
কনসার্ট আয়োজনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ন্যান্সি। তাঁর দাবি, গত মাসে তিনি মাত্র একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। খোলা মাঠের কনসার্ট প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ‘মব’ আতঙ্কের কারণে অনেক আয়োজক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আগ্রহী নন।
এ অবস্থায় তিনি সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র নিয়েও মন্তব্য করেছেন ন্যান্সি। তাঁর মতে, শুধু অনুদান প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্রের মানও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, যাতে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছেন না বলে জানান তিনি। তবে সরকারকে সময় দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী।
ন্যান্সির মতে, শিল্প-সংস্কৃতিকে অবহেলা করে কোনো দেশ সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তাই সংস্কৃতি খাতের বিকাশ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।