মর্যাদাপূর্ণ ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্ষীয়ান নির্মাতা পার্ক চ্যান-উক বিচারকদের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এটি দেশটির জন্য এক বিরল সম্মান, কারণ কোনো দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক আগে কখনো এই পদে নিয়োগ পাননি।
আমেরিকার শীর্ষ বিনোদন ম্যাগাজিন ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সভাপতি হিসেবে পার্ক চ্যান-উক এ বছরের সেরা চলচ্চিত্রকে পাম ডি’ওর বা গোল্ডেন পাম নামে পরিচিত সর্বোচ্চ পুরস্কারটি তুলে দেবেন। সভাপতি পদ পাওয়ার পর ৬২ বছর বয়সী পার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘৃণা ও বিভাজনের সময়ে মানুষ যখন সিনেমা হলে গিয়ে একত্রে সিনেমা দেখেন, তখন সেটি শুধুই বিনোদন নয়; এটি একটি আবেগঘন, সার্বজনীন একাত্মবোধের অনুভূতি তৈরি করে। চলচ্চিত্র মানুষকে একত্রিত করতে পারে।”
পার্ক চ্যান-উক দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র The Moon Is... the Sun’s Dream দিয়েই তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি এক ডজন অসাধারণ পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণ করেছেন, যা তাঁকে সমকালীন চলচ্চিত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নির্মাণে পার্ক বরাবরই প্রথা ভেঙেছেন এবং সাহসী, ব্যতিক্রমী শৈলীর জন্য সমাদৃত হয়েছেন।
চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলীর দিক থেকে তাঁর কাজগুলো সবসময় অভিনব ও সাহসী। পার্কের জনপ্রিয় সিনেমার মধ্যে রয়েছে Oldboy, The Handmaiden, Thirst, Lady Vengeance ইত্যাদি। এই সিনেমাগুলো আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল যেমন বাফটা ও কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা হিসেবে সমাদৃত হয়েছে এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পার্ক চ্যান-উকের সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক বার্তা দিয়ে দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তার নির্মাণশৈলী সাহসী, অভিনব এবং সময়ের প্রথা ভেঙে নতুন দিশা দেখানোতে সমৃদ্ধ। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান বিচারক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ নির্মাতাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।