বোটক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলায় আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে তাঁর জেরার দিন ধার্য ছিল। তবে দুপুরে দেরিতে আদালতে পৌঁছানোয় এদিন তাঁর জেরা করা সম্ভব হয়নি। পরে বিচারক আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মামলাটি নিয়ে নিজের মানসিক চাপের কথা জানান পরীমণি। তিনি বলেন, মামলার শুনানির তারিখ এলেই পুরোনো ঘটনাগুলো আবার মনে করতে হয়, যা তাঁর জন্য এক ধরনের মানসিক নির্যাতনের মতো। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আসলে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাই। যখন এই ডেটগুলো পড়ে। আবার সেই ঘটনাগুলো রিকল করা। এগুলো একপ্রকার মেন্টাল টর্চার বলতে গেলে।’
পরীমণি আরও বলেন, দ্রুত জেরা শেষ হয়ে মামলার একটি নিষ্পত্তি চান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আদালতে যাতায়াত তাঁর জন্য অনেকটা চাপের হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে সন্তানকে সময় দেওয়া, তার দেখাশোনা এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলে আদালতে হাজির হওয়াকে তাঁর কাছে বাড়তি ঝামেলা মনে হয়। তিনি বলেন, ‘রায়টা যত তাড়াতাড়ি হোক, সেটাই আমি চাই। কারণ আমার জন্য অনেক হ্যাসেল এগুলো।’
মামলাটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলায় দ্রুত এর সমাপ্তি চান পরীমণি। তিনি বলেন, ‘আদালতে পাঁচটা বছর তো হয়ে গেল। আমি আর চাই না এই হ্যাসেলটা।’ একই সঙ্গে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এতদিন অপেক্ষা করছেন জানিয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করেন তিনি।
পরীমণির ভাষ্য, আগামী নির্ধারিত তারিখে যেন জেরা শেষ হয় এবং মামলাটির একটি সুরাহা হয়, সেটিই এখন তাঁর প্রধান প্রত্যাশা। এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেভাবে তাঁকে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আসছেন, সেটিকে নিজের জন্য বড় সম্মান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২২ সালের ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমণির আংশিক জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দিতে ইতস্তত বোধ করেন তিনি। তাঁর আইনজীবী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মামলায় পরীমণির জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়। এবার জেরার অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।