বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ এবং পুলিশ প্রশাসনের অন্যতম বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় চিত্রনায়িকা পরীমণি এবং সাবেক ডিবি কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েনের সম্পর্ক। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই ঘটনার জল শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে সাকলায়েনের চাকরিচ্যুতি ও বাধ্যতামূলক অবসর পর্যন্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন এবং এর আগে দেওয়া পরীমণির এক বিশেষ সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে পুরো বিষয়টির ভেতরের সমীকরণ এখন নতুন করে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও ব্যাকগ্রাউন্ড ইতিহাস

২০২১ সালের জুন মাসে ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন পরীমণি। সেই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন। মামলার তদন্ত চলাকালীনই পরীমণি ও সাকলায়েনের মধ্যকার গভীর ঘনিষ্ঠতার খবর এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২১ সালের ১ আগস্ট পরীমণি নিজের গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে যাতায়াত এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ভিডিও প্রমাণ সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রশাসনের তদন্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরের শাস্তি

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও মামলার বাদীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো এবং সরকারি বাসভবন অপব্যবহারের অভিযোগে সাকলায়েনকে তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি থেকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে গঠিত তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে গুরুতর নৈতিক স্খলনের সত্যতা মেলার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস Training সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সাকলায়েনকে 'বাধ্যতামূলক অবসর' সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমণির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

সাকলায়েনের চাকরি হারানো নিয়ে পরীমণির বিস্ফোরক মন্তব্য

সাকলায়েনের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা ও তাদের সম্পর্ক নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, যেখানে তাদের সম্পর্ককে সঠিক উপায়ে সংজ্ঞায়িত করার আগেই সমাজ ও সাধারণ মানুষ এত বেশি অপবাদ দিয়ে ফেলেছে, সেখানে এই সম্পর্কটা আসলে কী তা নিয়ে কথা বলার কোনো জায়গাই জনগণ রাখেনি। প্রেম-ভালোবাসার বিষয়টি কেবল একটা অদ্ভুত বাহানা হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে দাবি করে পরীমণি বলেন, সাকলায়েন আসলে অন্য কোথাও এবং অন্য কোনো কারণে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন। একই সাথে গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন মুখরোচক খবরকে মনগড়া আখ্যা দিয়ে সাকলায়েনের এমন চাকরি হারানোর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এই নায়িকা।