বলিউডে তারকাদের পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। একসময় ১০ কোটি রুপি পারিশ্রমিকই ছিল বিস্ময়কর অঙ্ক। নব্বইয়ের দশকে চিরঞ্জীবী, কমল হাসান ও শ্রীদেবীর মতো তারকারা প্রথম এক কোটি রুপির পারিশ্রমিকের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এরপর শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খানের হাত ধরে বলিউডে পারিশ্রমিকের নতুন যুগের সূচনা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ ভারতীয় তারকারা সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেলেও এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রণবীর সিং। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ট্রেড রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তার আসন্ন ছবি ‘ধুরন্ধর’ থেকে মোট আয় প্রায় ৩২৫ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।

যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসবেন রণবীর। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ বিষয়ে এখনো রণবীর সিং কিংবা প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর’-এর জন্য প্রচলিত নিয়মে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেননি রণবীর। বরং ছবিটির লাভের অংশীদার হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পটিতে নিজেও বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

ফলে বক্স অফিস আয়, ডিজিটাল স্বত্ব, স্যাটেলাইট স্বত্ব, সংগীতস্বত্ব এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক উৎস থেকে অর্জিত আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার কাছে যাচ্ছে। ট্রেড বিশ্লেষকদের ধারণা, সব মিলিয়ে সেই অঙ্ক প্রায় ৩২৫ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।

বলিউডের তিন খানও দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যবসায়িক মডেলে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন ট্রেড রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ থেকে শাহরুখ খান প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে আয় করেছিলেন। অন্যদিকে ‘সুলতান’ ও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-এর মতো ছবিতে লাভের অংশীদারত্বের কারণে সালমান খানের আয়ও ১৫০ থেকে ২০০ কোটির বেশি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

একইভাবে ‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-এর মতো ছবির মাধ্যমে শতকোটি রুপির বেশি আয় করেছিলেন আমির খান।

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারাও পারিশ্রমিকের দৌড়ে পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জেলার’ ছবির জন্য রজনীকান্ত প্রায় ২৫০ কোটি রুপি, ‘পুষ্পা ২’-এর জন্য আল্লু অর্জুন ২০০ কোটির বেশি এবং ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র জন্য প্রভাসও ২০০ কোটির বেশি আয় করেছেন।

সেই প্রেক্ষাপটে রণবীর সিংয়ের কথিত ৩২৫ কোটি রুপির আয় স্বাভাবিকভাবেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ক্যারিয়ারের দিক থেকেও রণবীরের জন্য সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে ‘সার্কাস’ ও ‘জয়েশভাই জোরদার’-এর মতো ছবি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে বক্স অফিসে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে ‘ধুরন্ধর’কে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহ এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে আবারও শীর্ষ সারির তারকাদের আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে। চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ছবিটি সফল হলে রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসতে পারে।

তবে আপাতত ৩২৫ কোটি রুপির পারিশ্রমিকের বিষয়টি ট্রেড রিপোর্ট ও গণমাধ্যমের দাবি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।