ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, শিশু ধর্ষণ, দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ রাষ্ট্রের একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখার উপযোগী একটি চলচ্চিত্র কেন প্রদর্শন করতে দেওয়া হলো না, তার জবাব জনগণ জানতে চায়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যে রাষ্ট্র শিশুদের ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারে না, দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমা বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে দেশে উগ্রবাদী প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাজার ভাঙচুর, কবর থেকে মরদেহ তুলে অবমাননার মতো ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
তার ভাষায়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধর্মীয় চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়েছে। তাই দেশকে মৌলবাদী ধ্যানধারণার দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতির রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেন কোনো গোষ্ঠী নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন ও নিরাপদভাবে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রদর্শনী কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে স্থগিত করা হয় বলে আয়োজকরা জানান। একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে অনুষ্ঠিত আরেকটি প্রদর্শনীও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।