বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী। ‘গাল্লি বয়’-এর এমসি শের থেকে শুরু করে ‘গেহরাইয়া’র রোমান্টিক অবতার, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজেকে ভেঙেছেন। সম্প্রতি সঞ্জয় লীলা বানসালি প্রযোজিত ও রবি উদয়বার পরিচালিত ‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ছবিতে ম্রুণাল ঠাকুরের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের অনিশ্চয়তা, বানসালির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং আগামীর লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সিদ্ধান্ত।
শৈশবের অনিশ্চয়তা ও আত্মপরিচয়
আজকের আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে সিদ্ধান্ত বলেন:
“ছোটবেলায় আমার কোঁকড়ানো চুলের জন্য আমাকে ‘ম্যাগি নুডলস’ বলে মজা করা হতো। ছোট চোখ আর ইংরেজি ভালো না জানার কারণেও কটূক্তি শুনতে হয়েছে। এমনকি বাড়িতে ভোজপুরি ভাষায় কথা বলা নিয়েও ঠাট্টা হতো। এসব কারণে আত্মবিশ্বাস এতটাই কম ছিল যে, ক্লাসে উত্তর জানলেও হাত তুলতাম না। কিন্তু আজ বুঝি, এই কোঁকড়ানো চুল আর ছোট চোখই আমার শক্তি ও পরিচয়।”
সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
কিংবদন্তি নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রযোজনায় কাজ করাকে সিদ্ধান্তের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। তিনি বলেন:
“বানসালি স্যার এই গল্পের দুই প্রধান চরিত্রের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পান। অনেকে তাঁকে কঠোর মনে করলেও, তিনি আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। তাঁর সংবেদনশীল পরামর্শ আমাদের কাজকে আরও সহজ করে তুলেছে।”
‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ ও আধুনিক প্রেক্ষাপট
ছবির নাম ও থিম নিয়ে সিদ্ধান্ত জানান, ইনস্টাগ্রামের ‘ফিল্টার’ সংস্কৃতির এই যুগে নিখুঁত হওয়ার ইঁদুরদৌড়ে তরুণ প্রজন্ম মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। তাঁর মতে, এই সিনেমাটি সেইসব মানুষের গল্প বলে যারা অসম্পূর্ণ হয়েও একে অপরের মধ্যে পূর্ণতা খুঁজে পায়। সহ-অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া চমৎকার ছিল কারণ দুজনেরই স্ট্রাগল বা লড়াইয়ের পথ অনেকটা একই রকম।
ভি শান্তারামের বায়োপিক ও আগামীর লক্ষ্য
সিদ্ধান্তের ঝুলিতে এখন বড় বড় সব প্রজেক্ট। প্রখ্যাত নির্মাতা ভি শান্তারামের জীবন অবলম্বনে নির্মিত বায়োপিকে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্র নিয়ে তাঁর ভাষ্য:
“এটি আমার জন্য বড় দায়িত্ব। তিনি শুধু নির্মাতা নন, একজন দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। তাঁর চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি শুধু নায়ক হতে চাই না, এমন কাজ করতে চাই যা মানুষের মনে ছাপ ফেলবে।”
বর্তমানে ‘ধড়ক ২’-এর সাফল্যের পর ‘দো দিওয়ানে শহর মেঁ’ দিয়ে সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করলেন যে, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে সাধারণ চেহারার ছেলেও বক্স অফিস ও দর্শকদের মন জয় করতে পারে।