অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর কাজল চোখ, হাসি এবং স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, দর্শকের ভালোবাসা, জনপ্রিয় জুটি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
তটিনী জানান, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর কাজল চোখের প্রশংসা করছেন, যা তাঁর ভালো লাগে। মজার বিষয় হলো, একসময় তিনি কাজল একেবারেই পছন্দ করতেন না। ছোটবেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পর্যন্ত তাঁর ধারণা ছিল, কাজল দিলে চোখ আরও ছোট দেখায়। তবে গত কয়েক বছরে সেই ধারণা বদলে গেছে। এখন কাজল ব্যবহার করলে নিজেকে আরও মায়াবী মনে হয় বলেও জানান তিনি।
অভিনয়ের প্রশংসা পেলে ভালো লাগার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও বেড়ে যায় বলে মনে করেন তটিনী। দর্শকদের কাছ থেকে নিয়মিত অভিনয়, হাসি কিংবা পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে প্রশংসা শুনতে হয় তাঁকে। এসব মন্তব্য তাঁকে আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
ইউটিউবে তাঁর অভিনীত বেশির ভাগ নাটকই কোটি ভিউ অতিক্রম করে। এ বিষয়ে তটিনীর মতে, এটি কোনো একক সাফল্য নয়, বরং পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, সব সময় ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রকে প্রাধান্য দেন। একজন দর্শক হিসেবে নিজে কাজটি দেখতে আগ্রহী হবেন কি না, সেটিও বিবেচনা করেন। তাঁর বিশ্বাস, ভালো কাজ হলে দর্শক সেটি গ্রহণ করবেই।
ক্যারিয়ারের শুরুতে সব ধরনের কাজ করলেও এখন অনেক বেশি সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। অতীতে কিছু কাজ প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
তটিনী বলেন, প্রতিটি নাটকের সাফল্য নতুন কাজের ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক চাপ তৈরি করে। দর্শক আগের মতোই ভালোবাসবে কি না, সেই ভাবনা থাকে। তবে এই চাপ তাঁকে নতুন কিছু করার এবং আরও ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার অনুপ্রেরণা দেয়।
ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পরপর দুই বছর পাওয়ার পর কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে নিজেকে আরও বেশি প্রমাণ করার জেদ তৈরি করেছে। তিনি চান, তাঁর সাফল্য যেন কাজের মাধ্যমেই মূল্যায়িত হয় এবং কেউ যেন তাঁর অর্জন নিয়ে প্রশ্ন না তোলে।
অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন, এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন তটিনী। তাঁর ভাষ্য, ঈদের সময় টানা কাজের চাপ থাকায় পরে কিছুটা বিরতি নিয়েছিলেন। বর্তমানে আবার নিয়মিত শুটিং করছেন এবং বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন, যা পর্যায়ক্রমে মুক্তি পাবে।
সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, সবার সঙ্গেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে দর্শকের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় তাঁর মনে হয়, জুটি হিসেবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হয় অভিনেতা জোভানের সঙ্গে। যদিও ইয়াশ রোহান ও তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে তাঁর জুটিও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়। তবু ধারাবাহিকভাবে তাঁদের নাটকের ভিউ ও দর্শকপ্রিয়তা বিবেচনায় জোভানের সঙ্গে তাঁর জুটিকেই সবচেয়ে জনপ্রিয় মনে করেন তিনি।
নাটকে তাঁর হাসি, খুনসুটি ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে। তবে একই ধরনের চরিত্রে আটকে যেতে চান না বলে জানান তটিনী। প্রতিটি চরিত্র নিয়ে আলাদা করে ভাবেন, যাতে দর্শকের কাছে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও আপাতত বড় পর্দায় নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁর। বিশেষ করে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নাচ, গ্ল্যামার ও প্রস্তুতির জায়গায় নিজেকে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করেন না। তবে ভবিষ্যতে শৈল্পিক বা ভিন্নধর্মী সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সবশেষে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে মজার ছলে তটিনী বলেন, কাজল চোখের প্রশংসা দর্শকদের কাছ থেকে অনেক পেলেও খুব কাছের মানুষের কাছ থেকে এমন প্রশংসা খুব একটা শোনা হয়নি।