দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার শীর্ষ সুপারস্টার থালাপতি বিজয় প্রমাণ করলেন যে, তিনি কেবল রুপালি পর্দারই 'থালাপতি' (সেনাপতি) নন, বরং রাজনীতির ময়দানেও এক অপরাজেয় শক্তি। ২০২৪ সালে নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (TVK) গঠনের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা। আর সেই প্রথম পরীক্ষাতেই বাজিমাত করলেন তিনি। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল এবং ট্রেন্ড বলছে, বিজয়ের দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক প্রথা (DMK ও AIADMK) ভেঙে বিজয়ের এই উত্থানকে ভারতীয় রাজনীতির এক নতুন বিপ্লব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সিনেমার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অনড় অবস্থান ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিজয়ের সমর্থকদের বিজয়োল্লাস এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দিচ্ছে, তামিলনাড়ু এক নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় ছিল।
বিজয় তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য নয় বরং মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতিতে এসেছেন। তাঁর দল টিভিকে-র এই অভাবনীয় সাফল্য এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রুপালি পর্দার 'লিও' বা 'বিস্ট' এখন বাস্তবের মাটিতে তামিলনাড়ুর পরবর্তী কাণ্ডারি হওয়ার পথে।