শৈশবের বিনোদনে কিছু চরিত্র সময়ের সঙ্গে কখনো পুরোনো হয় না। প্রজন্ম ও প্রযুক্তি বদলালেও টম-জেরির দৌড়ঝাঁপ, মোটু-পাতলুর মজার কাণ্ড কিংবা গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতা এখনও দর্শকদের হাসায়। তিন চরিত্রের জন্ম ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জায়গায় রয়েছে দারুণ মিল।

টম ও জেরি বিশ্ব অ্যানিমেশনের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবেরা ১৯৪০ সালে ‘Puss Gets the Boot’ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে চরিত্র দুটিকে প্রথম দর্শকের সামনে আনেন। শুরুতে তাদের নাম ছিল জ্যাসপার ও জিনক্স। পরে টম-জেরি নামেই তারা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়। সংলাপের বদলে শারীরিক কৌতুক, দৌড়ঝাঁপ ও পরিস্থিতিনির্ভর হাস্যরসই তাদের জনপ্রিয়তার বড় কারণ।

ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে মোটু-পাতলুও বেশ পরিচিত নাম। দুই বন্ধুর নানা বিপত্তি, ভুলভ্রান্তি ও মজার পরিস্থিতি ঘিরে এগিয়ে যায় তাদের গল্প। ফুরফুরি নগরকে কেন্দ্র করে তৈরি অ্যানিমেটেড সিরিজে জন, ইন্সপেক্টর চিংগাম, ড. ঝটকা ও ঘাসিটারামের মতো চরিত্রও রয়েছে। ২০১২ সালে Nickelodeon India-তে সিরিজটির সম্প্রচার শুরু হয়। মোটুর সমোসাপ্রীতি আর পাতলুর তুলনামূলক বাস্তববাদী স্বভাব তাদের গল্পে বাড়তি হাসির উপাদান যোগ করে।

অন্যদিকে গোপাল ভাঁড় মূলত বাংলা লোককথায় প্রতিষ্ঠিত একটি রসিক চরিত্র। প্রচলিত গল্পে তাকে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারের ভাঁড় হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে তাঁর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই তাকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং বাংলা লোকসাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র হিসেবে দেখাই বেশি সতর্ক অবস্থান। তাঁর গল্পে উপস্থিত বুদ্ধি, রসবোধ ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে নানা পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

বিনোদনের মাধ্যম বদলে টেলিভিশন থেকে স্ট্রিমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছালেও এই চরিত্রগুলোর আবেদন কমেনি। কারণ সময় বদলালেও সহজ, প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসের প্রতি মানুষের আগ্রহ একই রয়ে গেছে।