১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবিতে বেবি রাধিকা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন জোয়া আফরোজ। এরপর ‘মন’‘কুছ না কহো’- এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ ‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’- এ অভিনয়ের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। সিরিজে নিজের চরিত্র, দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা এবং সহ-অভিনেতা ইমরান হাশমির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি মিড ডে–কে খোলামেলা কথা বলেছেন জোয়া।

অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলো স্মরণ করে জোয়া বলেন, খুব অল্প বয়সেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন, যখন সবকিছুই ছিল একেবারে ভিন্ন রকম। শিশুশিল্পী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পথ যে সহজ ছিল না, সেটিও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। জোয়ার মতে, ছোটবেলায় দর্শকের মনে গড়ে ওঠা একটি নির্দিষ্ট ইমেজ বড় হওয়ার পর ভাঙা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। এখন অনেক বেশি সচেতনভাবে চরিত্র ও কাজ বেছে নেন জোয়া। ‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস’-এ নিজের চরিত্র ‘প্রিয়া’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সিরিজ তাঁকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছে। প্রিয়া শুধু গল্প এগিয়ে নেওয়ার একটি চরিত্র নয়; তার নিজস্ব একটি যাত্রা রয়েছে, আর সেই যাত্রাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে।

দর্শকদের সাড়া প্রসঙ্গে জোয়া বলেন, ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়ে তিনি ভীষণ স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। দর্শক শুধু গল্পের টুইস্ট নয়, চরিত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করছে এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে অভিনয়ের প্রশংসা করে বার্তা পাঠাচ্ছেন, আর তিনি চেষ্টা করেন প্রতিটি বার্তার উত্তর আন্তরিকভাবে দেওয়ার।

এই সিরিজে ইমরান হাশমির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও জোয়ার কণ্ঠে ছিল প্রশংসা। তাঁর ভাষায়, ইমরান অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত মানুষ। সেটে তাঁর শান্ত স্বভাব ও আত্মবিশ্বাস সবাইকে স্বচ্ছন্দ করে তোলে। সহশিল্পীদের প্রতি তাঁর পেশাদার আচরণ নতুন ও তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ অভিনেতাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

শুটিং সেটের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন জোয়া। তাঁর মতে, পুরো টিমের মধ্যে ছিল ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী আবহ। সবাই জানতেন, তাঁরা কী করছেন। এমন পরিবেশে কাজ করলে অভিনয় স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।