প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে ‘কথিত স্বামী’ বা ‘স্বামী’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশের জেরে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববিকে ঘিরে বিনোদনপাড়ায় চলছে তুমুল আলোচনা। এই ধরনের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ববি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই নোংরা গুজব শুধু তাঁর ব্যক্তিজীবনকেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি, বরং সুদূর প্রবাসে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ববি এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, গ্রেপ্তার হওয়া বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক কখনোই ছিল না। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালে তাঁকে ববির ‘স্বামী’ বানিয়ে চটকদার খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
উষ্মা প্রকাশ করে ববি বলেন, ‘আমাকে বাশারের কথিত স্বামী বলা হচ্ছে, এটা টোটালি ফেক ও বানোয়াট। শুরুতে ভেবেছিলাম এসব সস্তা গসিপ, তাই গায়ে লাগাইনি। কারণ আমি জানি বিনোদন জগতে না জেনেই অনেকে অনেক কথা ছড়ায়। কিন্তু আমার পরিবার তো আর এই কাদা-ছোড়াছুড়ির জগৎ বোঝে না। তাঁরা দেশের বাইরে থাকেন। তাঁরা যখন হুট করে অনলাইনের এসব নোংরা খবর দেখেন, তখন ভীষণ কষ্ট পান। সংবাদে যা আসে, সবকিছু যে সত্য নয় এই সাধারণ বিষয়টি তো প্রবাসে বসে সবার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না।’
অভিনেত্রীর অভিযোগ, কোনো ধরনের ন্যূনতম তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন পোর্টাল এই ভুয়া খবর ও পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে একজন প্রথম সারির শিল্পী হিসেবে সমাজে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। কিন্তু কিছু মানুষ ভিউ বাণিজ্যের চক্করে পড়ে এই পেশার ন্যূনতম নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছেন। সত্যতা যাচাই ছাড়া খবর প্রকাশ করলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কতটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে, সেটা অন্তত তাঁদের একবার ভাবা উচিত।’
নিজের অবস্থান শতভাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে ববি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সে আমার স্বামী এই কথাটি দুনিয়ার কেউ যদি অফিশিয়ালি প্রমাণ করতে পারে, তবে সে যা চাইবে, আমি তা-ই দেব। কারণ, এমন কোনো পবিত্র বা অপবিত্র সম্পর্ক আমাদের মাঝে কখনোই ছিল না। এই আজগুবি দাবির পক্ষে কারও কাছে ধোপে টিকার মতো কোনো প্রমাণও নেই।’
বাশারের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র উল্লেখ করে ববি জানান, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল স্রেফ পেশাগত বা কাজের সূত্রে। ববির ভাষ্য, ‘ওই বিটিএল কোম্পানির সঙ্গে আমার কোনো অফিশিয়াল বা প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি নেই। যতটুকু যোগাযোগ ছিল, সেটা শুধুই কাজের খাতিরে। কোনো করপোরেট অনুষ্ঠানে বা অফিসে গেলে উদ্যোক্তারা একজন সেলিব্রিটি বা শিল্পী হিসেবে সম্মান জানিয়ে ছবি তোলে, বসার ব্যবস্থা করে। এখন সেই সাধারণ সৌজন্যমূলক ছবিগুলো অপব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন আমাদের মধ্যে গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে! এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।’
এই অপপ্রচারের কারণে নিজের মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে জানিয়ে ববি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার মা অনলাইনের এসব খবর দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং অসুস্থ হয়ে গেছেন। তাঁকে এখন বারবার ফোন করে বোঝাতে হচ্ছে যে এগুলো সব ভুয়া ও মিথ্যা খবর। একজন সন্তানের জন্য নিজের মায়ের এই অবস্থা দেখার চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? পরিবার যখন অকারণে সামাজিকভাবে কষ্ট পায়, তখন বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। আমার প্রশ্ন হলো আমাদের বন্ধু বলা হয়নি, পরিচিত বলা হয়নি, সরাসরি কোনো প্রমাণ ছাড়া ‘স্বামী’ বানিয়ে দেওয়া হলো কেন? কার স্বার্থে বা কার ইশারায় এই নোংরা খেলা হচ্ছে? আমার ব্যক্তিজীবন নিয়ে এমনিতেই বড় কোনো বিতর্ক নেই। তাই হয়তো সস্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার জন্য বা অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্যে আমার নামটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
কথা প্রসঙ্গে ববি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ওই ব্যবসায়ী তাঁর একটি আসন্ন চলচ্চিত্রের আংশিক অর্থায়ন বা সহ-প্রযোজক ছিলেন বলেই হয়তো ঘটনাটির সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দেওয়া সহজ হয়েছে। কারণ ওই প্রতারকের খবর এমনিতে হয়তো এতটা হাইপ পেত না, তাই নিউজটিকে চটকদার করতে ববির নাম বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু একটা খবরের কাটতির জন্য একজন নামী শিল্পীর সম্মান ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারও নেই বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড়ঝাপটার মাঝেই ববি তাঁর পেশাগত জীবনের এক নতুন খবর ভাগ করে নেন। তিনি জানান, আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এবার তিনি ‘শিবা শানু-জয় চৌধুরী’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে লড়বেন। উল্লেখ্য, এর আগে প্রায় এক দশক আগে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ববি।