কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার আবদুল্লাহ আল মামুন, যিনি প্রিন্স মামুন নামে পরিচিত, তাকে আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই রাতে প্রিন্স মামুন শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একটি শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন বলে লাইভে প্রচার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী মোহনা ও তার পরিবার দায়ী থাকবে। লাইভটি দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, মোহনার মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং প্রিন্স মামুনের বাবা-মায়ের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশি সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, এর আগে মোহনা অভিযোগ করেন যে প্রিন্স মামুন তার কাছে কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেছেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। ওই মামলায় গত ২৪ জুলাই তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান ২৫ জুলাই তাকে এ মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন প্রিন্স মামুন। গত বছরের জুন মাসে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেয়।