জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী ঐশী বর্তমানে গান এবং চিকিৎসা, দুই পেশা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে নতুন গান, অন্যদিকে পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্সের শেষ পর্যায়ের পড়াশোনা ও ইন্টার্নশিপ। সম্প্রতি ওয়েব ফিল্ম লাইফলাইন-এ তার কণ্ঠে ‘আমারে নাও’ গানটি শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। গানটির পেছনের গল্প, চিকিৎসক হিসেবে ব্যস্ততা, নতুন পরিকল্পনা এবং স্বামী আরেফিন জিলানীর অভিনয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ঐশী জানান, ‘আমারে নাও’ গানটির জন্ম হয়েছে একেবারে সৃষ্টির টেবিলে বসেই। সংগীত পরিচালক নিরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংগীতভিত্তিক বোঝাপড়া থেকেই এমন একটি আত্মিক গান করার ভাবনা আসে। পরে লাইফলাইন ওয়েব ফিল্মের গল্পের প্রয়োজনে দ্বিতীয় একটি গানের প্রয়োজন হলে গীতিকার-নির্মাতা কাজী আসাদ ও সংগীত পরিচালক নিরব গানটি তৈরি করেন। তখনও ঠিক হয়নি, কে গানটি গাইবেন। পরে নিরবের মনে হয়, ঐশীর কণ্ঠই এই গানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

ঐশীর ভাষায়, লিরিক, সুর, সংগীত প্রযোজনা এবং শিল্পী যখন একসঙ্গে বসে একটি গান তৈরি করেন, তখন সেটির সঙ্গে শিল্পীর আত্মিক সংযোগ তৈরি হয়। ‘আমারে নাও’ গানটির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।

ঠাণ্ডা মেজাজের গান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঐশী বলেন, সংগীতজীবনের শুরু থেকেই তিনি সব ধরনের গান শেখা ও গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। শ্রোতারা তাকে বাণিজ্যিক গানের পাশাপাশি ‘মায়া রে’ কিংবা ‘না থাকলে সংসারে’র মতো ভিন্নধর্মী গানেও গ্রহণ করেছেন। নিজের কণ্ঠ নিয়ে নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালো লাগে বলেই বিভিন্ন ধারার গান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।

সম্প্রতি ব্ল্যাক জ্যাংয়ের সঙ্গে প্রকাশিত আঞ্চলিক ভাষার গান ‘নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ নিয়েও সন্তুষ্ট ঐশী। তিনি জানান, গানটি থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছেন। আঞ্চলিক ভাষাকে আধুনিক উপস্থাপনায় তুলে ধরার চেষ্টা দর্শকরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, প্রথমে এটি বিদেশি গান মনে হলেও পরে বুঝেছেন এটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার গান।

সংগীতের পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবেও ব্যস্ত সময় পার করছেন ঐশী। তিনি জানান, বর্তমানে পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্সের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। ফলে পড়াশোনা, ইন্টার্নশিপ এবং গান, সব মিলিয়ে ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। তবে এর মধ্যেই শ্রোতাদের জন্য ‘আমারে নাও’ গানের একটি লাইভ পিয়ানো ভার্সন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছেন।

চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সময় রোগীদের কাছ থেকেও ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পান বলে জানান ঐশী। তার ভাষায়, গায়িকা পরিচয় রোগীদের কাছে যেমন আনন্দের বিষয়, তেমনি সংগীতাঙ্গনেও চিকিৎসক পরিচয় তাকে আলাদা সম্মান এনে দিয়েছে। মানুষের ভালোবাসা তাকে আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ঐশী বলেন, তিনি নিজেকে আরও ভাঙতে চান। নিজের কণ্ঠের সঙ্গে মানানসই নতুন নতুন ঘরানার গান গেয়ে এমন কিছু সৃষ্টি করতে চান, যা মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

স্বামী অভিনেতা আরেফিন জিলানীর কাজ নিয়েও কথা বলেন ঐশী। তিনি জানান, আরেফিনের অভিনয় প্রশংসা পেলে তার খুব ভালো লাগে এবং তিনি এতে গর্ববোধ করেন। তার বিশ্বাস, সততা ও মেধার মাধ্যমে আরেফিন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন।