বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিযায়াতির গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করেছেন কয়েকজন বিনিয়োগকারী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে মামলাটি দায়ের করা হয়। বিনিয়োগকারীদের দাবি, সেলেনা গোমেজের তারকাখ্যাতি ও বিশ্বজুড়ে বিপুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের প্রভাবকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করা হয়েছিল।
২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’-এ সেলেনা গোমেজ একাধারে সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল দেখিয়ে পাঁচ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ১২ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, গত প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি ধসে পড়লেও প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকদের কেউই সে তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করেননি।
এই মামলায় সেলেনা গোমেজের পাশাপাশি তাঁর মা ও প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকেও আসামি করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দাবি করা হয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মূলধন ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করলেও, বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দেওয়া একাধিক করপোরেট চুক্তি, অ্যাপ চালু এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের কোনো প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।
মামলার নথিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সেলেনা, তাঁর মা এবং পিয়ারসন যৌথভাবে কোম্পানিটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। বিনিয়োগকারীদের তহবিল থেকে ড্যানিয়েল পিয়ারসনের নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ৬০ হাজার ডলারের ভাড়াসহ ব্যক্তিগত খরচ মেটানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে পিয়ারসন প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যান এবং পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সব অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।