‘আলিফ লাইলা’ হলো বিখ্যাত মধ্যপ্রাচ্যীয় লোককাহিনির সংকলন ‘এক হাজার এক রাত্রি’ বা ‘আরবিয়ান নাইটস’ (Arabian Nights) অবলম্বনে নির্মিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিক। রামানন্দ সাগরের ‘সাগর পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে নির্মিত এই মেগা সিরিয়ালটি দর্শকদের মাঝে জাদুকরী এক রূপকথার জগত তৈরি করেছিল। মূল আরবি শিরোনাম ‘আলিফ লাইলা ওয়া-লায়লা’ (ألف ليلة وليلة)-র সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে এর নামকরণ করা হয় ‘আলিফ লাইলা’। ধারাবাহিকটি মূলত দুটি সিজনে নির্মিত হয়েছিল। প্রথম সিজনটি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ডিডি ন্যাশনালে (ডিডি১) এবং দ্বিতীয় সিজনটি ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাব টিভিতে সম্প্রচারিত হয়। দুই সিজন মিলিয়ে এতে মোট ৩০৩টি পর্ব প্রচারিত হয়েছিল।

নাটকটির মূল কাহিনি শুরু হয় পারস্যের রাজা শাহরিয়ার এবং তাঁর বুদ্ধিমতী রানী শাহরজাদের (শেহেরেজাদে) গল্প দিয়ে। নারীদের ওপর ক্ষুব্ধ রাজা শাহরিয়ারকে প্রতিদিন নতুন গল্প শুনিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতেন রানী শাহরজাদ। এই মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিকটিতে ‘এক হাজার এক রাত’-এর সুপরিচিত ও স্বল্প পরিচিত উভয় ধরনের চমৎকার সব গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ডিডি১-এ সম্প্রচারিত প্রথম সিজনে (১৯৯৩–১৯৯৭) ‘তাজির অ জিন’ (ব্যবসায়ী ও জিন), ফিশারম্যান ও জিন, হাকিম দৌবান, আলাদিন ও জাদুকরী প্রদীপ, আলী বাবা ও চল্লিশ চোর, এবং সিন্দবাদ জাহাজির বিভিন্ন রোমাঞ্চকর সমুদ্রযাত্রার মতো বিখ্যাত গল্পগুলো স্থান পেয়েছিল। অন্যদিকে, ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এসএবি টিভিতে প্রচারিত দ্বিতীয় সিজনে খলিফা হারুন আল-রশিদের রাতের দুঃসাহসিক অভিযান, অন্ধ ফকির জামালের গল্প, জিশান ও সোফোনিসবা, দুই ভাই জালাল ও বিলাল এবং সিন্দবাদের চার খোপড়ি অভিযানের মতো দারুণ সব গল্প সম্প্রচারিত হয়।

এই নাটকের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এর চমৎকার সব চরিত্রায়ন ও দুর্দান্ত কাস্ট। নাটকের প্রধান চরিত্র রাজা শাহরিয়ার ও রানী শাহরজাদের ভূমিকায় যথাক্রমে অভিনয় করেছিলেন গিরিজা শঙ্কর ও দামিনী কানওয়াল শেঠি। এছাড়া বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্রে নবদীপ সিং (আলাদিন), সুনীল পান্ডে (আলী বাবা), শাহনওয়াজ প্রধান (সিন্দবাদ), মুকুল নাগ (যুবরাজ জামাল সাকিব), লতা হায়া (ডাইনি-রাণী হামিরা), তারকেশ চৌহান (জালাল তালিব/হারুন-অর রশিদ) এবং পিঙ্কি পারিখের (দুরক্ষা/মারজিনা) মতো প্রতিভাবান শিল্পীরা তাদের অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে মোজারবেয়ার (Moser Baer) থেকে এর ভিসিডি এবং ডিভিডি সংস্করণও বাজারে ছাড়া হয়, যেখানে ডিভিডি সংস্করণে ১৪৩টি পর্ব ২০টি খণ্ডে বাজারজাত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ধারাবাহিকটি আজও নব্বইয়ের দশকের একটি সোনালী নস্টালজিয়া হয়ে সবার হৃদয়ে বেঁচে রয়েছে।