নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ক্রাইম-থ্রিলার সিরিজ ‘ব্লাড স্যাক্রিফাইস’ ওটিটি দুনিয়ায় বিশ্বজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে। ‘দ্য কিলিং’ ও ‘ট্যাবু’ খ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নায়হোম পরিচালিত এই নরডিক নোয়ার সিরিজটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নেটফ্লিক্সের নন-ইংলিশ ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় থ্রিলারপ্রেমীদের নজর কাড়া এই সংক্ষিপ্ত পাঁচ পর্বের সিরিজের মূল গল্প ও শক্তিমত্তা তুলে ধরা হয়েছে।

সিরিজটির গল্প গড়ে উঠেছে পুলিশের জরুরি নম্বরে আসা এক ফোনকল এবং পরবর্তীকালে পর পর দুই পুলিশ কর্মকর্তার শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধারের মতো নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একের পর এক পুলিশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামেন গোয়েন্দা টমাস বার্গ। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে পাশে পেতে হয় নিজের প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা আলফ্রেডকে, যার সঙ্গে তাঁর বছরজুড়ে ছিল তিক্ত সম্পর্ক। তবে কেবল অপরাধীকে চিহ্নিত করার লড়াই নয়, বাবা-ছেলের পারিবারিক দূরত্ব ও আবেগঘন মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনই এই সিরিজের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

সুইডেনের কনকনে ঠান্ডা ও নীরব পরিবেশের সঙ্গে রক্তাক্ত এই রহস্যের বৈপরীত্য সিরিজটিকে এক অস্বস্তিকর থ্রিলারের আবহ দিয়েছে। টমাস বার্গের চরিত্রে ইয়াকভ অফটেব্রোর সংযত অভিনয় এবং পুরোনো ধাঁচের জেদি গোয়েন্দা আলফ্রেড চরিত্রে পিটার অ্যান্ডারসনের দারুণ অভিনয় কুড়িয়েছে সমালোচকদের প্রশংসা। রটেন টমেটোজে ৮৯ শতাংশ স্কোর অর্জন করা পাঁচ পর্বের এই নরডিক নোয়ার নাটকীয়তার চেয়ে নীরবতা ও থমথমে আবহ দিয়ে দর্শকদের নিখুঁত রোমাঞ্চ উপহার দেয়।