বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা জীবনের শেষ অধ্যায়ে মানুষের কল্যাণে একটি স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী মনে করেন, পৃথিবী থেকে বিদায়ের আগে এমন একটি কাজ করে যাওয়া প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন মানুষের উপকারে আসবে।

সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বিজয়নগরে অবস্থিত তাদের দাদাবাড়ি পরিদর্শনে যান ববিতা। শৈশবের নানা স্মৃতিবিজড়িত সেই সফরে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি নির্বাচন ও চূড়ান্ত করেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, জমি নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পেরে তার ভেতরে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি কাজ করছে। তার বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তা তাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

ববিতা বলেন, খুব সুন্দর ও নান্দনিক একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে তার। শিগগিরই মসজিদের নকশা প্রণয়ন করা হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

অভিনেত্রীর ভাষায়, জন্ম-মৃত্যু মানুষের জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। তাই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে এমন একটি কাজ করে যেতে চান, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, ববিতা ১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে যাত্রা শুরু করেন। অভিনয়জীবনের শুরুতে তার নাম ছিল ‘সুবর্ণা’। পরবর্তীতে জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় তার নাম পরিবর্তন করে ‘ববিতা’ রাখা হয়। এরপর তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।