এ বছরের সরস্বতীপুজো নানা দিক থেকে ব্যতিক্রমী। ২০২৬-এ বাঙালির প্রেমদিবসে প্রেক্ষাগৃহে একটি প্রেমের ছবিও নেই। তার চেয়েও বড় চমক, স্ক্রিনিং কমিটির নির্দেশ উপেক্ষা করে একাধিক হলে দাপট দেখিয়েছে বড় বাজেটের হিন্দি ছবি ‘বর্ডার ২’।
বক্স অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ বছরের সরস্বতীপুজোয় মুক্তি পেয়েছে তিনটি বাংলা ছবি। চন্দ্রাশিস রায়ের ‘বিজয়নগরের হীরে’, রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’ এবং অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। স্ক্রিনিং কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে এই তিনটি বাংলা ছবিকেই শো দেওয়ার কথা। তার পর জায়গা পাওয়ার কথা হিন্দি ছবির।
কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই খবর। আনন্দবাজার ডট কমের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার একাধিক প্রেক্ষাগৃহে তারকাখচিত দেশপ্রেমের ছবি ‘বর্ডার ২’ দুটো করে শো পেয়েছে। তার জেরে তিনটি বাংলা ছবি অনেক ক্ষেত্রে একটি করে শোতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কোথাও কোথাও আবার তিনটির কোনওটিই জায়গা পায়নি। নবীনা, প্রাচী, মিনার, বিজলি, গ্লোব, অশোকা-সহ একাধিক হলে এমন ছবিই দেখা গেছে।
এর মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহ (সাবেক স্টার থিয়েটার)। সেখানে তিনটি বাংলা ছবিই একসঙ্গে জায়গা পেয়েছে। তবে ২৩ জানুয়ারি কলকাতার অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে এমন ছবি দেখা যায়নি।
এক সপ্তাহ পরে বক্স অফিসের হিসেব কী বলছে? সানির ‘ঢাই কিলো কা হাত’-এর সঙ্গে কি কেউ লড়াইয়ে টিকে থাকতে পেরেছে?
পরিসংখ্যান বলছে, এখানেও শীর্ষে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিবেশক রাজকুমার দামানির দাবি, কলকাতাতেই এক সপ্তাহে ‘বর্ডার ২’ কয়েক কোটি টাকা ব্যবসা করেছে।
তবে বড় বাজেটের হিন্দি ছবির একমাত্র কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে ‘বিজয়নগরের হীরে’। চার বছর পর পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় ফিরিয়ে এনেছেন ‘কাকাবাবু-সন্তু’ জুটিকে। ছোটদের পাশাপাশি বড়দেরও টেনেছে এই ছবি। প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনির মতে, প্রথম দু’দিনেই ৯০টির বেশি শো হাউসফুল হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে এবং ছবি ইতিমধ্যেই কোটির ক্লাবে ঢুকেছে।
ছবিমুক্তির পরের দিনই আসে আরও এক সুখবর। কেন্দ্রের তরফে ঘোষণা করা হয়, এ বছর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। হলমালিকদের মতে, এই ঘোষণাও ছবির ব্যবসায় বাড়তি গতি এনেছে। নবীনা, বিনোদিনী, মিনার-বিজলি প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা এবং পরিবেশকরা সকলেই ছবির ফলাফলে সন্তুষ্ট। তাঁদের একবাক্য মন্তব্য, “বুম্বাদা এখনও টলিউডের ইন্ডাস্ট্রি। বছরের যে কোনও সময়েই ওঁর ছবি দর্শক টানে।”
তবে বাকি দুই ছবির ফল আশাব্যঞ্জক নয়। হলমালিকেরা স্বীকার করেছেন, ‘হোক কলরব’ এবং ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করতে পারেনি। বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহে ছবিগুলি মোটামুটি চললেও কোনও শো হাউসফুল হয়নি। সার্বিকভাবে তাঁদের মত, সরস্বতীপুজোয় মুক্তি পাওয়া তিনটি বাংলা ছবির মধ্যে প্রকৃত লাভের মুখ দেখেছে শুধু ‘কাকাবাবু আর সন্তু’। প্রসেনজিৎ যে এখনও বক্স অফিসে শেষ কথা বলেন, তা অস্বীকার করার জায়গা রাখেননি কেউই।