নারী চালক ও কন্ডাক্টরদের নিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলায় চালু হয়েছে বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা। নারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই। এবার পিংক বাস নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বর্ষা জানান, ব্যক্তিগতভাবে পিংক রং তাঁর খুব একটা পছন্দের নয়। তবে নারীদের পরিচালনায় পিংক বাসের উদ্যোগটি তাঁর নজর কেড়েছে এবং বিষয়টি তাঁর ভালো লেগেছে। তিনি লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে পিংক কালার আমার কখনোই খুব একটা পছন্দের ছিল না। কিন্তু এই পিংক রঙের বাসটি আমার নজর কেড়েছে এবং সত্যিই আমার ভালো লেগেছে।’

নারীদের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বর্ষা বলেন, মেয়েরা যখন প্রাইভেট কার, প্লেন ও হেলিকপ্টার চালাতে পারে, তখন বাস চালাতেও অবশ্যই সক্ষম। সুযোগ পেলে নারীরা যেকোনো কাজই দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক কম এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য ভালো ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করেন বর্ষা। তাঁর মতে, এমন বাস্তবতায় পিংক বাসের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ।

পিংক বাসে দায়িত্ব পালন করা নারী চালক ও কন্ডাক্টরদের শুভকামনা জানিয়ে বর্ষা আশা প্রকাশ করেন, তাঁদের দেখে আরও অনেক নারী নিজেদের স্বপ্নকে বড় করে দেখার সাহস পাবেন। নারীদের মধ্যে ‘আমিও একদিন এই গাড়িটি চালাব’ এমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়াটাই তাঁর প্রত্যাশা।

কোনো কাজকেই ছোট করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বর্ষা বলেন, ‘কাজ মানেই সম্মান।’ মানুষের কাজ যা-ই হোক, সেই কাজের মধ্যে ভালোবাসা, আত্মসম্মান ও আনন্দ খুঁজে পাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

পিংক বাসের উদ্যোগ আরও অনেক নারীর জন্য কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। নারী চালকদের সাহস ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পথচলা দেখে আরও অনেক নারী নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাবেন।

সবশেষে পিংক বাসে নিজেও যাত্রী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্ষা। পোস্টের শেষদিকে তিনি লিখেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ হঠাৎ করে আমিও যাত্রী হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’