চলছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের নতুন আসরকে ঘিরে পুরো বিশ্বেই এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও সেই উন্মাদনার কমতি নেই। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু লাতিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। যদিও বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি, তবুও প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছে পুরো দেশ।
এই ফুটবল উন্মাদনায় এবার ভিন্নভাবে আলোচনায় এসেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। শুধু অভিনয় নয়, নিজের ভিন্নধর্মী শিল্পীসত্তার জন্যও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এবার বিশ্বকাপের আবহে তিনি নিজের আরেক প্রতিভার ঝলক দেখালেন প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি এর একটি স্কেচ এঁকে।
শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেসির সেই স্কেচ পোস্ট করেন চঞ্চল চৌধুরী। ছবিটিতে ফুটে উঠেছে মেসির পরিচিত হাসি, চোখের অভিব্যক্তি, দাড়ি এবং চুলের নিখুঁত ডিটেইলস। স্কেচটি এতটাই জীবন্ত যে নেটিজেনরা প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হয়ে পড়েন।পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন,“আমি মেসির একটা ছবি আঁকব, এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।”
পোস্টটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটিতে হাজার হাজার রিঅ্যাকশন জমা হয়। দুই শতাধিক মন্তব্যে ভরে ওঠে প্রশংসা আর ভালোবাসার শব্দে। কেউ লিখেছেন, চঞ্চল চৌধুরী শুধু একজন অভিনেতাই নন, তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন শিল্পী; আবার কেউ তুলনা টেনেছেন মেসি যেমন ফুটবলে অনন্য, তেমনি অভিনয়ে অনন্য চঞ্চল।
চঞ্চল চৌধুরীর শিল্পীসত্তা অবশ্য নতুন কিছু নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গান, চিত্রাঙ্কন এবং ভিজ্যুয়াল আর্টে সমান দক্ষতা দেখিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ফেসবুকে প্রায়ই তিনি নিজের আঁকা ছবি শেয়ার করেন, যেখানে উঠে আসে নানা পরিচিত মুখ ও ব্যক্তিত্ব। এর আগে তিনি ডিজিটাল তুলিতে এঁকেছেন সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি।
ফুটবল বিশ্বকাপের এই উচ্ছ্বাসের মাঝে চঞ্চল চৌধুরীর এই মেসি স্কেচ যেন ভক্তদের জন্য বাড়তি আনন্দের উপহার হয়ে এসেছে। অনেকে বলছেন, তার এই শিল্পকর্ম শুধু একটি ছবি নয়, বরং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও শিল্পের প্রতি তার গভীর সংযোগের প্রতিফলন।