আজ ১৩ জুলাই, হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ডের জন্মদিন। ১৯৪২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী অভিনেতা আজ ৮৪ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন। একসময় সংসার চালাতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করা এই মানুষটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা।

কলেজের পাঠ চুকিয়ে ষাটের দশকে অভিনয়ে নাম লেখালেও শুরুর দিকে বড় কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না হ্যারিসন। বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন বাড়িঘর সংস্কার ও আসবাব তৈরির কাজ করে পরিবার চালান তিনি। তবে অভিনয়ের স্বপ্ন তিনি কখনো ছেড়ে দেননি। তাঁর সেই অধ্যবসায় আর ভাগ্য বদলে যায় ১৯৭৭ সালে, যখন পরিচালক জর্জ লুকাসের ‘স্টার ওয়ারস’ চলচ্চিত্রে ‘হ্যান সোলো’ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ছবিটি বিশ্বজুড়ে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি তাঁকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে।

হ্যান সোলো যদি তাঁকে তারকা বানিয়ে থাকে, তবে ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’ চরিত্রটি তাঁকে বসিয়েছে কিংবদন্তির আসনে। ১৯৮১ সালে ‘রাইডার্স অব দ্য লস্ট আর্ক’ মুক্তির পর চাবুক হাতে, টুপি পরা প্রত্নতত্ত্ববিদ ইন্ডিয়ানা জোনস চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পপুলারিটি পায়। দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয়জীবনে ‘ব্লেড রানার’, ‘উইটনেস’ (যার জন্য অস্কার মনোনয়ন পান), ‘দ্য ফিউজিটিভ’ এবং সাম্প্রতিক মার্ভেল স্টুডিওর ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’-এর মতো অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন স্যাড-আফট্রার সর্বোচ্চ সম্মান ‘আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ লাভ করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি হ্যারিসন ফোর্ড একজন দক্ষ পাইলট এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল’-এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিয়ে করা এই অভিনেতা বর্তমানে স্ত্রী ক্যালিস্তা ফ্লকহার্ট ও পাঁচ সন্তান নিয়ে হলিউডের অন্যতম সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।