ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে জিৎ। অনন্ত সিংহের জীবনের বিভিন্ন সময়কে পর্দায় তুলে ধরতে তাঁর লুকেও এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। কখনো তরুণ বিপ্লবী, আবার কখনো পরিণত বয়সের অনন্ত সিংহ দুই রূপেই নজর কেড়েছেন এই অভিনেতা।

সংলাপ বলার ধরন, পর্দায় উপস্থিতি এবং অ্যাকশন দৃশ্যে শারীরিক পারফরম্যান্স ছবিতে বাড়তি গতি এনেছে। বিশেষ করে দেশাত্মবোধের আবহে নির্মিত দৃশ্যগুলোতে জিতের স্টারডম দর্শকের আবেগকে নাড়া দেওয়ার মতো। তাঁর ভক্তদের জন্য ছবিতে রয়েছে বেশ কিছু ‘মাস’ মুহূর্তও।

অ্যাকশন দৃশ্যগুলো বড় ক্যানভাসে নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু জায়গায় দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রভাব চোখে পড়লেও তা পুরোপুরি বেমানান মনে হয়নি। বরং জিতের অ্যাকশননির্ভর পারফরম্যান্স ছবির বিনোদনমূলক দিকটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে ছবিটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। ঐতিহাসিক সময়কাল ও পরিবেশকে আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরার সুযোগ ছিল। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রও পর্যাপ্ত বিকাশ পায়নি। তাঁদের আরও কিছুটা সময় দেওয়া হলে গল্পের আবেগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও গভীর হতে পারত।

বিশেষ করে শেষের দিকের আদালত-পর্বটি আরও টানটানভাবে নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। কোথাও কোথাও ছবির দৈর্ঘ্যও গল্পের গতিকে কিছুটা ধীর করেছে। ফলে কিছু অংশে সম্পাদনা আরও সংক্ষিপ্ত হলে ছবির গতি বাড়ত বলে মনে হতে পারে।

জিৎকে ঘিরেই ছবির মূল গল্প এগোলেও টোটা রায়চৌধুরী, চন্দন সেন, কৌশিক সেন ও রজতাভ দত্তসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরাও নিজেদের চরিত্রে ভালো করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি ছবির পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং মূল গল্পের সঙ্গে পার্শ্বঘটনাগুলোকে যুক্ত করেছে।

সব মিলিয়ে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক হয়ে ওঠার চেষ্টা করেনি। বরং অনন্ত সিংহের মতো একটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে কেন্দ্র করে ইতিহাস, আবেগ ও অ্যাকশনের মিশেলে বড় পর্দার বিনোদন উপহার দেওয়াই ছবিটির প্রধান লক্ষ্য। সেই জায়গা থেকে জিতের প্রত্যাবর্তন দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে আগ্রহের একটি বিষয়।