হলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ জানিয়েছেন, একজন পুরুষের আকর্ষণীয় হওয়ার জন্য দামি ঘড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত বিমানের প্রয়োজন নেই। তার মতে, প্রতিদিনের জীবনে যত্নশীল ও দায়িত্বশীল আচরণই একজন মানুষকে সত্যিকারের আকর্ষণীয় করে তোলে।
সম্প্রতি ইতালির সিসিলির টাওরমিনায় অবস্থিত ইসোলা বেলায় ডলচে অ্যান্ড গাব্বানার আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৫৬ বছর বয়সী এই তারকা। ২৪ জুলাই তার ৫৭তম জন্মদিনের আগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সম্পর্কে পারস্পরিক যত্নের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি।
মঞ্চে নিজের পুরুষ ব্যাকআপ নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে হালকা মেজাজে কথোপকথনের একপর্যায়ে লোপেজ রসিকতা করে একজনকে তার চুল ঠিক করে দিতে বলেন। পরে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেকেই তাকে ‘দামি’ নারী হিসেবে ভাবেন, আর তিনি নিজেও মজা করে স্বীকার করেন যে কিছুটা হলেও বিষয়টি সত্য। তবে একই সঙ্গে তিনি নারীদের মনে করিয়ে দেন, বর্তমান সময়ে নারীরা নিজেদের উপার্জন করেন এবং কারও ওপর নির্ভর না করেও নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।
যদিও ভালোবাসার মানুষ উপহার দিলে সেটি অবশ্যই আনন্দের বিষয় বলে উল্লেখ করেন লোপেজ। তবে তার কাছে একজন পুরুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ঘড়ি, গাড়ি বা ব্যক্তিগত বিমান নয়, বরং সকালে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখা কিংবা সঙ্গী ক্লান্ত থাকলে তার জন্য বাসন ধুয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট কাজই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে।
লোপেজের ভাষায়, এসব যত্নশীল আচরণই সত্যিকারের আকর্ষণীয়। কারণ, সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের ঘরের অধিকাংশ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই একজন পুরুষ যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই দায়িত্ব ভাগ করে নেন, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন জেনিফার লোপেজ। জীবনে চারবার বিয়ে করেছেন তিনি। প্রথম স্বামী ছিলেন ওজানি নোয়া। পরে নৃত্যশিল্পী ক্রিস জাডকে বিয়ে করেন। ২০০৪ সালে গায়ক মার্ক অ্যান্থনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এমে রয়েছে। ২০১৪ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে।
পরবর্তীতে সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে বাগদান হলেও ২০২১ সালে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর পুরোনো প্রেমিক বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করে ২০২২ সালে বিয়ে করেন লোপেজ। তবে সেই দাম্পত্যও স্থায়ী হয়নি। ২০২৪ সালে তারা আলাদা হয়ে যান এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের বিচ্ছেদ আইনিভাবে চূড়ান্ত হয়।
সম্পর্কের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং ছোট ছোট যত্নশীল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জেনিফার লোপেজ। তার মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অথচ অর্থবহ কাজগুলোর মধ্যেই।