দীর্ঘ ১৬ বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর আবার পর্দায় ফিরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন অভিনেত্রী জ্যোতি মুখার্জি। নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় কোর্টরুম ড্রামা ‘ইক্কা’-তে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ছবিটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, সানি দেওল ও তিলোত্তমা শোমের সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁর ননদ নন্দিনী অর্থাৎ রানী মুখার্জি ও দেবর আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে পারিবারিক রসায়নের কথা শেয়ার করেছেন।
‘ইক্কা’ চলচ্চিত্রে একটি মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হওয়া মেয়ের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতি। চরিত্রটির মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থা ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চরিত্রের আবেগ ধরে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সংলাপহীন দৃশ্যগুলোতে নিজেকে সামলে অনুভূতিগুলো ফুটিয়ে তোলা বেশি চ্যালেঞ্জিং।’
সিনেমাটিতে বলিউড তারকা সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে জ্যোতি জানান, ‘প্রথম দিন শুটিংয়ে সানি দেওলের শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের কারণে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ একজন সহ-শিল্পী। সিনিয়র অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওভার-দ্য-শোল্ডার শটের জন্য বডি ডাবল ব্যবহার না করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শট দিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ শুটিংয়ের সেটে বাঙালি অভিনেত্রী তিলোত্তমা শোমের সঙ্গে রান্নাবান্না ও ইলিশ মাছ নিয়ে আড্ডার মুহূর্তগুলোর কথাও তিনি স্মৃতিচারণ করেন।
নিজের ১৬ বছরের দীর্ঘ বিরতি ও প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে জ্যোতি বলেন, সন্তানরা বড় হওয়ার পর তাদের নিজের জায়গা দিতেই তিনি অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে দীর্ঘ সময় দূরে থাকায় শুরুর দিকে বহু রিজেকশনের মুখ দেখতে হয়েছিল। অবশেষে চার বছর ধরে টেলিভিশনে কাজ করার পর এখন তিনি বড় পর্দায় নিয়মিত হচ্ছেন। ইতিপূর্বে ‘মহারাজ’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করার পর এবার ‘মার্দানি ৩’-তেও এক চিকিৎসকের চরিত্রে রানীর সঙ্গে দেখা যাবে তাঁকে।
পরিবারের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জ্যোতি মুখার্জি জানান, আদিত্য চোপড়া সবার খেয়াল রাখা একজন দারুণ মানুষ এবং সেরা দেবর। অন্যদিকে ননদ রানী মুখার্জির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘রানীর জীবন তার পরিবারকে ঘিরেই। সে আমার সন্তানদের অনেক ভালোবাসে। সেটে রানী যেমন অনুশাসন মেনে ঠিক সময়ে উপস্থিত হয়, তেমনি ঘরের মানুষ হিসেবেও সে ভীষণ দায়িত্বশীল।’