দক্ষিণী সুপারস্টার যশের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সিনেমাটিতে নাদিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। চরিত্রটির কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি কিয়ারা কেন এই চরিত্রটি বেছে নিয়েছেন, সেটিও ভক্তদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানান, সিনেমার গল্প শোনার পরই তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাস যেভাবে নাদিয়া চরিত্রটি নির্মাণ করেছেন, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
কিয়ারা বলেন, “গল্পটি শোনার পর আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। চরিত্রটি খুব সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন চরিত্র খুঁজি, যেখানে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ থাকে।”
তিনি আরও বলেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি এমন জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র হলো সেটি, যেখানে নানা ধরনের আবেগ, শক্তি ও দুর্বলতা প্রকাশের সুযোগ থাকে।
যদিও ‘টক্সিক’-এ নাদিয়া চরিত্রের বিস্তারিত তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে জানা গেছে এটি একটি বহুস্তরীয় ও জটিল চরিত্র। কিয়ারা জানান, চরিত্রটিতে শক্তি, ভঙ্গুরতা, আবেগ এবং মানসিক দ্বন্দ্বের নানা দিক তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। একজন অভিনেত্রীর জন্য এটি স্বপ্নের মতো একটি চরিত্র বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিনেমায় নারীর চরিত্রায়ন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কিয়ারা আদভানি। তিনি মনে করেন, নারীদের একঘেয়ে বা নির্দিষ্ট ছকের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
কিয়ারা বলেন, “আমি চাই না নারীদের শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের মধ্যে আটকে রাখা হোক। বাস্তব জীবনে আমরা অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। তাই পর্দার চরিত্রও তেমন হওয়া উচিত।”
‘টক্সিক’-এ কিয়ারার সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত। সহ-অভিনেত্রীদের প্রশংসা করে কিয়ারা বলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে আলাদা শক্তি ও ব্যক্তিত্ব যোগ করেছেন। তার বিশ্বাস, একই সিনেমায় এত ভিন্ন ধরনের নারী চরিত্র দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে।
যশ ও গীতু মোহনদাসের গল্পে নির্মিত ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ একটি অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী সিনেমা। ছবিটির গল্পে বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানা গেছে। কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় একসঙ্গে শুট করা সিনেমাটি পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।
সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক রাজীব রবি। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরি করেছেন রবি বসরুর এবং অ্যাকশন দৃশ্য পরিচালনা করেছেন হলিউডের খ্যাতিমান স্টান্ট পরিচালক জে জে পেরি।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা তুঙ্গে রয়েছে।