টলিউডের জনপ্রিয় তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলা সাম্প্রতিক ট্রোলিং ও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, কোনো মানুষের পোশাক বা শারীরিক গঠন নিয়ে কটু মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি ‘নেভার মাইন্ড’ ছবির প্রিমিয়ারে একটি বেগুনি রঙের গাউন পরে হাজির হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। রেড কার্পেটে তাঁর সেই পোশাকের কিছু মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কুরুচিপূর্ণ বডি শেমিং এবং এজ শেমিং (বয়স নিয়ে খোঁচা)। পোশাকটি নিয়ে অভিনেত্রীর সাময়িক অস্বস্তির অভিব্যক্তিকেও নেটিজেনরা কটাক্ষের হাতিয়ার করে তোলেন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কনীনিকা বলেন, ‘তোমারও তো শরীরের গঠন বদলাবে, ৪০-এর পর যে কারও বদলাতেই পারে। তোমাদের হয়তো ৫০-এর পর মুখে বলিরেখাও আসবে। তখন সেগুলো নিয়েও অন্য মানুষ কথা বলবে কিন্তু! মনে রাখবে থুতু ছুঁড়লে সেটা তোমার দিকেও পড়বে।’ তিনি আরও যোগ করেন, উচ্চতায় থাকা কোনো মানুষকে টেনে নিচে নামিয়ে বা ছোট করে কেউ নিজে বড় হতে পারে না। এমন মানসিকতার মানুষদের তিনি ‘কূপমণ্ডূক’ বলেও আখ্যা দেন।

কনীনিকার স্পষ্ট বক্তব্য, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একজন তারকা বলেই নয়, একজন সাধারণ নারী হিসেবেও নিজের পছন্দের পোশাক পরার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে যখন একজন নারী অন্য একজন নারীকে পোশাক বা চেহারা নিয়ে আক্রমণ করেন, তখন তা সমাজের জন্য আরও বড় নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

উল্লেখ্য, এই পোশাক বিতর্ক নিয়ে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও সমাজমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আয়না দেখার পরামর্শ দিয়ে লিখেছিলেন, ‘পোশাক আপনার পরা উচিত, এমনটা হওয়া উচিত নয় যে পোশাকই আপনাকে দমিয়ে দিচ্ছে’। তবে শ্রীলেখার এমন পরোক্ষ মন্তব্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কনীনিকা সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পক্ষ নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কাউকে ছোট করে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে মানুষের প্রতি সম্মান বজায় রাখাই অনেক বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।