জীবনের কিছু মুহূর্তে সময়ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ এবং অনিশ্চিত এক যাত্রার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চরকি অরিজিনাল চলচ্চিত্র ‘লাইফলাইন’। কাজী আসাদ পরিচালিত এই সিনেমাটি আগামী ২১ জুন মুক্তি পাবে চরকিতে।

বুধবার প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। সেখানে দেখা যায়, একজন মানুষকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন শহুরে তরুণী অনন্যা, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। এই অভিযানে তার সঙ্গী হন কোরবান চরিত্রের রেজওয়ান পারভেজ। মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা মতবিরোধ, আবেগঘন মুহূর্ত এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন।

তবে অনন্যা কাকে খুঁজছেন, কেন খুঁজছেন কিংবা এই যাত্রার শেষ কোথায় সেসব রহস্য এখনই প্রকাশ করতে চাননি নির্মাতারা।

পরিচালক কাজী আসাদ জানান, ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’-এর পর তিনি নতুন ধরনের একটি গল্প নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সামাজিক বাস্তবতা, আবেগ এবং মানুষের সম্পর্কের গভীরতা তাঁকে এই গল্প নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে।

চলচ্চিত্রটির নাম ‘লাইফলাইন’ রাখার কারণ নিয়েও এখনই বিস্তারিত বলতে রাজি নন তিনি। তাঁর মতে, দর্শক কোনো পূর্বধারণা ছাড়াই সিনেমাটি দেখলে গল্পের সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করতে পারবেন।

কোরবান চরিত্রে অভিনয় করা রেজওয়ান পারভেজ বলেন, ‘লাইফলাইন দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা এবং অনুভূতির গল্প। এখানে ভালোবাসার এক ভিন্ন রূপ দেখানো হয়েছে, যা দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।’

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দুর্গম পথে মোটরসাইকেল চালানো। বিশেষ করে খেতের আল ধরে চলার সময় সহ অভিনেত্রী মিমের নিরাপত্তার বিষয়টিও তাঁকে মাথায় রাখতে হয়েছে।

বিদ্যা সিনহা মিমও শুটিংয়ের সময় প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উঁচুনিচু রাস্তা এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করা সহজ ছিল না। তবে ভালো দৃশ্য ধারণের পর পুরো ইউনিট নতুন উদ্যমে কাজ করত।

নিজের চরিত্র সম্পর্কে মিম বলেন, অনন্যা সময়ের সঙ্গে এক ধরনের লড়াইয়ের মধ্যে আটকে থাকা একজন মানুষ। সে সেই সময়কে অতিক্রম করতে পারবে কি না, সেটাই গল্পের মূল রহস্য।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, গল্পটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর মৌলিকতা। চরিত্রগুলোর আচরণ এবং বাস্তবতাভিত্তিক উপস্থাপন দর্শকদের সঙ্গে সহজেই সংযোগ তৈরি করবে।

‘লাইফলাইন’ এ আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর এবং ফাতেমাতুজ জোহরা। চলচ্চিত্রটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও কাজী আসাদ।