ছোট্ট বন্ধুদের কাছে মীনা শুধু একটি কার্টুন চরিত্র নয়, আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু শেখারও এক প্রিয় সঙ্গী। প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৩ সালে টেলিভিশনের পর্দায় যাত্রা শুরু করা এই চরিত্র আজও শিশুদের মনে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর উদ্যোগে তৈরি মীনা কার্টুন প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হয়। পরে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও স্থানীয় ভাষায় প্রচারিত হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
কার্টুনে মীনার বয়স ৯ বছর। চটপটে, হাসিখুশি ও বুদ্ধিমান এই মেয়েটি স্কুলে যেতে, নতুন কিছু শিখতে এবং নানা সমস্যার সমাধান করতে ভালোবাসে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে সে। মীনার সঙ্গে সব সময় থাকে তার ছোট ভাই রাজু। দুজনের মধ্যে রয়েছে গভীর ভালোবাসা। খেলাধুলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভালো কাজে তারা একে অপরকে সাহায্য করে।
মীনার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী মিঠু নামের একটি টিয়া পাখি। কথা বলতে পারা এই পাখিটি নানা পরিস্থিতিতে মীনা ও রাজুকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে। তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আদরের দাদী, বাবা-মা, ছোট বোন রানী এবং পোষা গরু লালী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মীনা ও রাজুর নানা অভিজ্ঞতা ঘিরেই এগিয়ে চলে কার্টুনটির অনেক গল্প।
মীনার গল্পের বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে শিশুদের সহজ ও আনন্দদায়ক উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে খাবার স্যালাইন তৈরি ও পান করার মতো স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা যেমন রয়েছে, তেমনি গুরুত্ব পেয়েছে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার এবং শিক্ষার সুযোগ।
মীনা ও রাজুর গল্প শিশুদের বোঝায়, ছেলে কিংবা মেয়ে হওয়া নয়, বরং শেখার আগ্রহ ও চেষ্টা একজন মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে। পড়াশোনা, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গল্পের ছলে তুলে ধরায় কার্টুনটি শিশুদের কাছে একই সঙ্গে বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
তাই সময়ের সঙ্গে টেলিভিশন ও বিনোদনের ধরন বদলালেও মীনার আবেদন রয়ে গেছে। হাসি, মজা আর নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশুদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বার্তা দেওয়াই মীনা কার্টুনের অন্যতম আকর্ষণ।