মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘অবসেশন’। ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ছবিটির জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছে এটি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘অবসেশন’-এর বিশ্বব্যাপী আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এত কম বাজেটের একটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের এমন সাফল্য চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিস্ময় তৈরি করেছে।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ষষ্ঠ সপ্তাহেও ছবিটির আয় উল্লেখযোগ্য হারে অব্যাহত রয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে ছবিটি ইতোমধ্যে বছরের অন্যতম সফল হরর সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফিচারসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের মর্যাদাও পেয়েছে।

আরও একটি বিরল রেকর্ড গড়েছে ‘অবসেশন’। ১৯৮২ সালের ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’-এর পর প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তির পর ধারাবাহিক কয়েক সপ্তাহ সপ্তাহান্তের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ছবিটির।

ছবিটির নির্মাতা ক্যারি বার্কার আগে মূলত ইউটিউব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তার ‘মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল’ নামের স্বল্প বাজেটের প্রকল্প অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পরই আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ‘অবসেশন’ নির্মাণের মাধ্যমে মূলধারার হলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

‘অবসেশন’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে বিয়ার নামের এক তরুণকে ঘিরে, যে একটি রহস্যময় অতিপ্রাকৃত খেলনার সাহায্যে নিজের ভালোবাসার মানুষ নিকিকে নিজের প্রেমে পড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই ইচ্ছাপূরণ ধীরে ধীরে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ভালোবাসা, আসক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বিপজ্জনক দিককে মনস্তাত্ত্বিক হররের মোড়কে তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।

‘অবসেশন’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর ক্যারি বার্কারের নতুন ছবি ‘অ্যানিথিং বাট গোস্টস’-এর কাজও শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে হলিউডের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হরর নির্মাতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।