সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় স্টুডিওটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ আয় করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টম হল্যান্ড অভিনীত এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী ৯২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই আয় দিয়ে সিনেমাটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়েছে। এ তালিকায় এখনো শীর্ষে রয়েছে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয় ছিল প্রায় ১২২ কোটি ডলার।

মাত্র তিন দিনেই ছবিটি তার আনুমানিক ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নির্মাণ ব্যয় পুষিয়ে ফেলেছে। ফলে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই এটি চলতি বছরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকার বাজারেও দারুণ সূচনা করেছে সিনেমাটি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলিয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে এর আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয় করা সিনেমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। এখানেও প্রথম স্থানে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার আয় ছিল ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও সিনেমাটি পেয়েছে ব্যাপক সাড়া। বিশ্বের ৭৩ হাজারের বেশি পর্দায় মুক্তি পাওয়া ছবিটি উত্তর আমেরিকার বাইরে থেকে আয় করেছে আরও ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে চীন থেকে, যেখানে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাজ্যে আয় করেছে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

গল্পের দিক থেকে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এগিয়েছে ২০২১ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার কয়েক বছর পরের সময়কে কেন্দ্র করে। এবারও পিটার পার্কার তথা স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছ থেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। অনেকের মতে, স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে এটি টম হল্যান্ডের সেরা পারফরম্যান্স।

মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি কেভিন ফাইগি সিনেমাটির উদ্বোধনী সাফল্যকে ‘অসাধারণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বড় পর্দায় উপভোগ করার জন্যই ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দর্শকরা ঠিক সেভাবেই এটি গ্রহণ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান গতি ধরে রাখতে পারলে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ খুব দ্রুতই এক বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। একইসঙ্গে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ও রয়েছে সেই দৌড়ে। ফলে বৈশ্বিক বক্স অফিসে বছরের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোর একটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা।