ব্যঙ্গ ও কৌতুককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা মার্কিন কিংবদন্তি নির্মাতা, অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী মেল ব্রুকস (Mel Brooks) আজ শতবর্ষে পা দিলেন। এক শতাব্দীর দীর্ঘ জীবনে তিনি শুধু কমেডিকে নতুন রূপই দেননি, বরং জীবনকে ভিন্নভাবে দেখার এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি শিখিয়েছেন। শত বছর বয়সে এসেও এই গুণী শিল্পী সমানভাবে সচল ও প্রাণবন্ত।

১৯২৬ সালের ২৮ জুন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক ইহুদি পরিবারে মেল ব্রুকসের জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে নাৎসি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। সেই বিষণ্নতা থেকেই হয়তো মানুষকে হাসানোর পথ বেছে নেন ব্রুকস। ১৯৬৭ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য প্রডিউসারস’ মুক্তি পায়। এই ছবিতে তিনি ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারকে অত্যন্ত হাস্যকর এক চরিত্র হিসেবে পর্দায় উপস্থাপন করে হলিউডে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই অনবদ্য কাজের জন্য তিনি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের অস্কারও জিতে নেন।

এরপর ‘ব্লেজিং স্যাডলস’, ‘ইয়াং ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং ‘হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড, পার্ট-১’-এর মতো একের পর এক কালজয়ী চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। যেখানেই দর্শক ভয় বা গাম্ভীর্য প্রত্যাশা করেছে, মেল ব্রুকস তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক দিয়ে সেখানে হাসির রোল তুলেছেন। বিনোদন জগতের চার বড় পুরস্কার অস্কার, এমি, গ্র্যামি ও টনি জয় করে তিনি বিনোদন দুনিয়ার একচেটিয়া ‘ইগট’ (EGOT) ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

১০০ বছর বয়সে পদার্পণ করেও মেল ব্রুকস আজও নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি হাসতে পারছেন, কেউ আপনাকে মেরে ফেলতে পারবে না” আজও ভক্তদের মনে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়। হাসি যে কেবল বিনোদন নয়, ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক অমোঘ অস্ত্র, মেল ব্রুকস নিজের জীবন দিয়ে সেটিই প্রমাণ করে গেছেন।