জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘লক আপ : সাচ ইয়া সাজা ২’-এ অভিনেতা রাম কাপুরের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা। সম্প্রতি সহ-প্রতিযোগী শিল্পা শিণ্ডের সঙ্গে আলাপচারিতায় রামের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ আচরণ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবাও আমাকে এত চুমু দেন না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি শোতে টিম লিডার নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে শিবাঙ্গী জোশি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আকাঙ্ক্ষা চামোলা টিম লিডার নির্বাচিত হন। এরপর লকার রুমে শিল্পা শিণ্ডের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া একটি টাস্কের ঘটনা তুলে ধরেন।

শ্রেয়ার দাবি, একটি টাস্ক চলাকালে রাম কাপুর শিবাঙ্গী জোশির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে প্রতিযোগী হারশাদ চোপড়া রামকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াতে বলেন। পরে রাম কাপুর ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

শুধু ওই ঘটনাই নয়, রামের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন শ্রেয়া। তাঁর ভাষ্য, কথা বলার সময় রাম এতটাই কাছে চলে আসেন যে এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি রাম আবার তাকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তিনি সরাসরি আপত্তি জানাবেন।

শ্রেয়ার মন্তব্য, ‘এবার যদি রাম আমাকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে, আমি তার মুখ ধরে বলব, আমার বাবাও আমাকে এত চুমু দেন না। এখন আর আমাকে চুমু দিয়ো না।’

উল্লেখ্য, এর আগে একটি টাস্কে জয়ের পর রাম কাপুর আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে শ্রেয়ার গালে চুমু দিয়েছিলেন। সেই টাস্কে জয়ের মাধ্যমে শ্রেয়া এক সপ্তাহের জন্য রামকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছিলেন।

রামের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেয়া আরও বলেন, তিনি ইতোমধ্যে তিনবার রামকে বাঁচিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে রামের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি।

বর্তমানে ‘লক আপ : সাচ ইয়া সাজা ২’ সঞ্চালনা করছেন ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখ। এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন রাম কাপুর, শ্রেয়া কালরা, শিবাঙ্গী জোশি, হারশাদ চোপড়া, আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী, সুনিতা আহুজা, সুফি মোটিওয়ালা, ধীরাজ ধুপার এবং ভারুণ যাদবসহ আরও কয়েকজন প্রতিযোগী।

২০২২ সালে কঙ্গনা রানাউতের সঞ্চালনায় শুরু হয়েছিল ‘লক আপ’-এর প্রথম মৌসুম। সেই আসরের বিজয়ী ছিলেন মুনাওয়ার ফারুকি। দ্বিতীয় মৌসুমে ১৪ জন প্রতিযোগী, দুইজন জেলর এবং একটি লক-আপকে ঘিরে ছয় সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতা চলছে, যেখানে বিভিন্ন টাস্ক সম্পন্ন করে গেমের মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের টিকে থাকতে হয়।