চার দশকের দাম্পত্য, শৈশবের প্রেম ও সংসারের নানা টানাপোড়েন পেরিয়ে এবার নিজের পরিচয়েই বাঁচতে চান সুনীতা আহুজা। গোবিন্দকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ভেঙে পড়তে চান না তিনি। বরং ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতার স্ত্রী।

সম্প্রতি আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন, সন্তান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সুনীতা।

অভিনয়ে আসার সুযোগ থাকলেও সংসারের জন্য সেই পথ বেছে নেননি তিনি। সুনীতা জানান, গোবিন্দর সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দর সঙ্গে আংটি বদল হয় তাঁর। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে এবং ১৯ বছরেই মা হন তিনি। মায়ের পরামর্শে তখন সংসারকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং নিজেকে ভালোবাসতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভালোবাসুন আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরুষের ওপর একেবারে পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না। আমি এত বছর পর গোবিন্দর স্ত্রী থেকে সুনীতা হয়েছি।’

নিজের ভালো থাকার মন্ত্রও জানিয়েছেন তিনি। সুনীতার কথায়, ‘নিজেকে ভালোবাসা, নিজের জন্য ভাবা, নিজের জন্য বাঁচা আর আনন্দ করাই ভালো থাকার মন্ত্র।’

গোবিন্দ ও তাঁর বান্ধবী কোমল রানিকে ঘিরে চলা আলোচনা নিয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে চাননি সুনীতা। তিনি বলেন, গোবিন্দর জীবন নিয়ে কিছু বলবেন না, শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলবেন। তবে কষ্ট পেলে ঈশ্বরের কাছে গিয়ে বসেন এবং সবকিছু তাঁর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান।

দীর্ঘ দাম্পত্যের স্মৃতিচারণ করে সুনীতা বলেন, জীবনের সব লড়াই তাঁরা একসঙ্গে করেছেন। তাঁর কথায়, ‘সব কিছু নারীই কেন ভাববে? তাঁরাই কেন মন খারাপ করে থাকবে সবসময়?’

গোবিন্দর প্রতি শুভকামনাও জানিয়েছেন সুনীতা। তিনি বলেন, ‘যেখানে তার সুখ, খুশি সেখানে থাকুন। ভগবান ওদের আশীর্বাদ দিক।’

গোবিন্দ ও সুনীতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের অভিনয়জীবন নিয়েও উচ্ছ্বসিত মা। তিনি জানান, ছেলেকে কখনো বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেননি। বরং নিজের মতো শক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ছেলের সাফল্য ও উন্নতি কামনা করেন তিনি।

সম্প্রতি সুনীতাকে আদালতের বাইরে দেখা যাওয়ার পর বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়ায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোর্টে যাওয়া মানে বিচ্ছেদ চাইতে যাওয়া নয়। সম্পত্তি বাচ্চাদের নামে করার জন্যও যেতে পারি।’

সব আলোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেও ইতিবাচক থাকার কথা জানিয়ে সুনীতা বলেন, ‘একটা তো জীবন দিয়েছেন ভগবান, সকলকে বলি খুব আনন্দ করুন। নিজের কথা ভাবুন।’ তাঁর কথায়, এখন নিজের পরিচয় ও নিজের নামকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি‘এখন শুধু সুনীতা সুনীতা।’