অভিনেত্রী Samia Othoi অভিযোগ করেছিলেন, শুটিংয়ের সময় তাকে মারধর করেছেন অভিনেত্রী Tanjin Tisha। বিষয়টি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন তানজিন তিশা। জানা গেছে, ঈদের নাটকের একটি চড় মারার দৃশ্য ঘিরেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা প্রথম আলোকে বলেন, “যে ব্যাপারটা ঘটেছে, আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করেছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে তার চরিত্রের প্রয়োজনে কাউকে মারতে পারে, মানুষকে কামড় দিতে পারে, পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে। কাজটি মুক্তি পেলেই আপনারা দেখতে পারবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।”

সামিয়া অথৈর অভিযোগ নিয়ে তিশা আরও বলেন, “সে এমনভাবে লাইভ করেছে, যেন আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছি। কিন্তু এমন কিছুই নেই এখানে। আমি যতটুকু করেছি, আমার চরিত্রের প্রয়োজনে করেছি এবং যতটুকু স্ক্রিপ্টে আছে ততটুকুই করেছি। চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি। এটি সেই মেয়েটার ব্যক্তিগত দুর্বলতা যে সে এটাকে প্রফেশনাল ব্যাপার থেকে বের করে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নিয়েছে।”

এ সময় তিশা বলেন, “শুটিংয়ে তো আরও অনেকেই ছিলেন। আমি তো একা নই। তিনি আমার কী এমন আচরণ পেলেন যে আমাকে লাইভে বলছেন, আমি এটা–সেটা খাই? এটা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ছোট করার জন্য বলা হয়েছে। কেন তিনি একজন শিল্পীকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই বললেন, বুঝতে পারছি না। সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করছি। তাঁরা তো কেউ এমন কথা বললেন না। তাঁর কাছে কেন মনে হলো? এর কারণ আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।”

এর আগে ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলেন সামিয়া অথৈ। তিনি বলেন, “একটি দৃশ্যে সহশিল্পী তানজিন তিশাকে আমার চড় মারার দৃশ্য ছিল। গল্পে তিশার চরিত্রটি পাগলের। পরিচালক আমাকে দৃশ্যটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি একদমই আলতোভাবে তাঁকে চড় মারি। কিন্তু ঘটনার পরেই তিশা আপুর মতো সিনিয়র শিল্পী আমাকে পাল্টা চড় মেরেছেন। শুধু তা-ই নয়, শুটিংয়ে সবার সামনে একের পর এক মেরেছেন।”

কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অথৈ। তিনি আরও বলেন, “গতকালও একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে হাতে আঘাত দিয়েছেন। আমি কিছু বলিনি। আজ আবার এমন ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। তিনি সিনের মধ্যেই আমাকে মেরেছেন, গাল ফুলিয়ে দিয়েছেন। আমার চোখ ফুলে গেছে। আমার জীবনে শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

Rafat Majumdar-এর পরিচালনায় নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন Shahiduzzaman Selim, Momena Chowdhury, Mir Rabbi-সহ অনেকে।

অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, “আমাদের ছোট কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি অনেক বড় করে দেখানো হয়। এ ঘটনা আমরা চাইলে কথা বলেই সমাধান করতে পারতাম। সেদিকেই যাচ্ছিলাম। পরে শুনি, সামিয়া অথৈ চলে গেছে। আমি ফোন দিয়েছি। প্রথমবার সে ফোন ধরে কাঁদল। পরে কেটে দিল। আর ফোন দিল না, ধরলও না। পেশাগত জায়গায় ঝামেলা হতেই পারে।”