আজ রবিবার (১০ মে), বিশ্ব মা দিবস। বিশেষ এই দিনে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের জীবনের এক করুণ অথচ সাহসিকতার গল্প শুনিয়েছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। তাঁর আজকের এই অবস্থানের পেছনে মায়ের যে অসামান্য অবদান রয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে তাঁর এই স্মৃতিচারণে।
তৌসিফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে ১৯৯৮ বা ১৯৯৯ সালের একটি শীতের সন্ধ্যার কথা মনে করিয়ে দেন। তখন তিনি ধানমন্ডির অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিন স্কুল ছুটি শেষে বাবা বা খালু তাঁকে নিতে আসলেও সেদিন কেউ আসছিলেন না। রাত ৭টা বেজে যাওয়ায় ছোট্ট তৌসিফ যখন স্কুলের দারোয়ানের রুমে ভয়ে আর রাগে অস্থির, তখনই রিকশায় করে উপস্থিত হন তাঁর মা।
মাকে দেখেই রাগে চিৎকার শুরু করেছিলেন তৌসিফ। কিন্তু রিকশাচালকের কথায় মুহূর্তেই তাঁর পৃথিবী থমকে যায়। তৌসিফ জানতে পারেন, স্কুলে আসার পথে ছিনতাইকারীরা তাঁর মায়ের পেটে ছুরি মেরে সর্বস্ব লুটে নিয়েছিল। কিন্তু সেই রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায়ও মা হাসপাতালে না গিয়ে কিংবা কাউকে সাহায্যের জন্য না ডেকে সোজা স্কুলে চলে এসেছিলেন। কারণ একটাই তাঁর ছোট্ট ছেলেটি স্কুলে একা বসে আছে, সে ভয় পাবে।
তৌসিফ মাহবুব লেখেন, “এটাই হচ্ছে আমার মা। আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অবদানের ফলেই আপনারা যে আমাকে চেনেন, সেই আজকের আমি হয়ে উঠতে পেরেছি।” তিনি আরও বলেন যে, পৃথিবীর সকল মাই তাঁদের সন্তানদের জন্য এমন অকাতর ত্যাগ স্বীকার করেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
মায়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে তৌসিফ তাঁর ভক্ত ও পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সবাই তাঁদের মায়েদের সুখে ও শান্তিতে রাখেন। সেই সঙ্গে যে মায়েরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এই অভিনেতা বিশ্বের সকল মাকে শ্রদ্ধা ও সালাম জানিয়েছেন।