তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কয়েক দিন পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের পরপর দুটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তৃষার পোস্ট দুটির সঙ্গে বিজয়-সঙ্গীতার দাম্পত্য এবং অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের পুরনো সম্পর্কের গুঞ্জন মিলিয়ে দেখছেন নেটাগরিকদের একাংশ।

সম্প্রতি তৃষা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘এই বয়সে এই নাটক করা সত্যিই লজ্জাজনক। তার চেয়ে বরং টাকা রোজগার করো এবং শান্তিতে থাকো।’ পোস্টটির সঙ্গে একটি ইমোজিও ছিল। তবে এই মন্তব্য কাকে উদ্দেশ করে কিংবা কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি অভিনেত্রী।

এর কিছুক্ষণ পর আরও একটি স্টোরি প্রকাশ করেন তৃষা। সেখানে লেখা ছিল, ‘এক দিন যে জীবনের প্রার্থনা করেছিলে, সেই জীবনে ডুবে থাকার সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!’ এই পোস্টেও কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

তবে সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহারের মাত্র চার দিন পর তৃষার পোস্ট দুটি সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ কেউ মনে করছেন, সঙ্গীতার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তৃষার রহস্যময় বার্তার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো যোগসূত্রের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি।

বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে সম্পর্কের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণী চলচ্চিত্রাঙ্গনে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে বিজয় কিংবা তৃষা কেউই প্রকাশ্যে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেননি।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন সঙ্গীতা। ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয় বিজয় ও সঙ্গীতার। তাঁদের দুই সন্তান, জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা।

পরে সঙ্গীতা আদালতের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজির হয়ে তিনি জানান, আর এই মামলা চালিয়ে যেতে চান না। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনও করেন। বিজয়ের আইনজীবী সেই আবেদনের বিরোধিতা না করায় আদালত সঙ্গীতাকে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন।

তবে আদালতের নির্দেশে সঙ্গীতা কেন বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করেছেন, সে বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নতুন করে মামলা করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ফলে সঙ্গীতার হঠাৎ মামলা প্রত্যাহার এবং তার কয়েক দিন পর তৃষার রহস্যময় পোস্ট, দুই ঘটনাকে ঘিরেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। তবে আপাতত এসব জল্পনার পক্ষে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।