ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপে যখন মগ্ন গোটা বিশ্ব, তখন মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফুটবলারদের ব্যক্তিজীবন নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা। গ্যালারিতে স্ত্রী, প্রেমিকা কিংবা পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি যেমন ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, তেমনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিজীবনও এখন আলোচনায়। বিশেষ করে স্পেনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এস্টার এক্সপোসিতোর সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন করে শিরোনাম হয়েছে।
যদিও এমবাপ্পে কিংবা এস্টার এক্সপোসিতো কেউই তাদের সম্পর্কের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, তবু গত কয়েক মাসে একাধিকবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
২০০০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে জন্মগ্রহণ করেন এস্টার এক্সপোসিতো। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। কিশোরী বয়সে থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে পরে স্প্যানিশ টেলিভিশন সিরিজ ‘ভিস আ ভিস’ ও ‘সেন্ত্রো মেডিকো’-তে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১৮ সালে। নেটফ্লিক্সের বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় স্প্যানিশ সিরিজ ‘এলিট’-এ কার্লা রোসোন চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি। সিরিজটির প্রথম তিন মৌসুমে অভিনয়ের পর নতুন প্রকল্পে মনোযোগ দিতে সরে দাঁড়ান।
এক সাক্ষাৎকারে এস্টার বলেছিলেন, ‘এলিট আমার জীবন পুরো বদলে দিয়েছে। এর আগে সিনেমা ও টেলিভিশনে কাজ করলেও এই সিরিজের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করে।’
‘এলিট’-এর সাফল্যের পর অভিনয় করেছেন ‘সামওয়ান হ্যাজ টু ডাই’, ‘ভেনেনো’ ও ‘বান্দিদোস’ সিরিজে। বড় পর্দায়ও দেখা গেছে ‘ভেনাস’ এবং ‘লস্ট ইন দ্য নাইট’ সিনেমায়।
এ বছর মন্তে-কার্লো টেলিভিশন ফেস্টিভ্যালে সম্ভাবনাময় অভিনয়শিল্পী হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল গোল্ডেন নিম্ফ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এস্টার। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে তার নতুন সিনেমা ‘ড্রন টুগেদার’, যা মার্সেডেস রনের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মারফিল’ অবলম্বনে নির্মিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন জগতেও পরিচিত মুখ এস্টার এক্সপোসিতো। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত শুটিং, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন, ভ্রমণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত শেয়ার করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি মনে করেন না এই অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম আমার জীবনের খুব ছোট একটি অংশ। সুযোগ পেলেই ফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।’
এ বছরের শুরু থেকেই এমবাপ্পে ও এস্টারের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। এপ্রিল মাসে প্যারিসে তাদের একসঙ্গে নৈশভোজ এবং পরে বোলিং খেলতে দেখা যায়। এরপর হামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার সময় ইতালির সার্ডিনিয়ায় একসঙ্গে অবকাশ যাপনের খবর প্রকাশ করে ইউরোপের কয়েকটি বিনোদনমাধ্যম।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে স্পেনের ইবিজাতেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই সম্পর্কের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এস্টার শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে আমি ভালো আছি।’
মজার বিষয় হলো, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সঙ্গে নাম জড়ালেও ফুটবল সম্পর্কে নিজের জ্ঞান খুব সীমিত বলেই স্বীকার করেছেন এস্টার। তার ভাষায়, ‘ফুটবল সম্পর্কে আমি প্রায় কিছুই জানি না। ছোটবেলায় আমাদের বাসায় ম্যাচ দেখার সংস্কৃতি ছিল না। এখন এই জগৎটাকে নতুন করে চিনছি, তাই ধীরে ধীরে আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।’
যদিও সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ক্রমেই বাড়ছে, এমবাপ্পে ও এস্টার এক্সপোসিতোর কেউই এখন পর্যন্ত প্রেমের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।