মাঠে কাজের ফাঁকে মোবাইল হাতে ইংরেজিতে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের কৃষাণী যশোদা লোধি। স্বামী অবশ্য বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কাজের সময় ভিডিও বানানোয় তাকে বকাঝকাও করেছিলেন। তবে সেই বকুনি উপেক্ষা করে বানানো ছোট্ট ভিডিওটিই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলিউড-হলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কাছে।

গ্রাম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন যশোদা। ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামে তার অ্যাকাউন্টে সহজভাবে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে গ্রাম ও হিন্দিভাষী মানুষ, যারা ইংরেজিতে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই কাজ করছেন যশোদা।

সম্প্রতি মাঠে কাজের ফাঁকে তৈরি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সেটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন। প্রিয়াঙ্কার মতো তারকার কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত যশোদা। পরে প্রিয়াঙ্কাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা যশোদার বাড়িতে নেই টেলিভিশনও। তাই প্রথম দিকে তার ভিডিও পরিচিত তারকারা দেখছেন এমন খবর বিশ্বাসই করতে পারতেন না তিনি। তার শিক্ষার্থীরাই তাকে জানাতে শুরু করেন, অনেক তারকা তার কাজের প্রশংসা করছেন।

বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে যশোদার অনুসারী ৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। ইউটিউবেও তার অনুসারীর সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রিয়াঙ্কাই অবশ্য প্রথম নন; অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুরও তার একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন। অভিনেতা অভয় দেওল ও আর মাধবনও তার কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে প্রিয়াঙ্কার স্বীকৃতিই যশোদার কাছে সবচেয়ে বিশেষ। মাঠে কাজ করতে করতে তৈরি করা একটি সাধারণ ভিডিও যে তার পছন্দের তারকার কাছে পৌঁছে যাবে, তা কখনো ভাবেননি তিনি। এই স্বীকৃতি তাকে আরও শেখা, কাজ করা এবং নিজের মতো করে ভিডিও বানানোর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।