বিয়ে, সংসার আর সন্তান নিয়ে ছয় বছরের বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন শার্লিন ফারজানা। দীর্ঘদিন পর শুটিং ফ্লোরে দাঁড়ানো তাঁর জন্য ছিল দারুণ আনন্দের। তিনি জানান, এর আগে কয়েকটি নাটক ও একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন। এমনকি দ্বিতীয় চলচ্চিত্রের শুটিংও শেষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, শুটিংয়ে ফিরে যে ভালো লাগা কাজ করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বাসায় বসে থাকা তাঁর ভালো লাগে না; কর্মক্ষেত্রেই তিনি প্রাণ খুঁজে পান।

সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘জীবন আমার বোন’ চলচ্চিত্রে। ছবিটিতে তিনি ‘নীলা’ নামের একটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করছেন। ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে একটি পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক আবহের পাশাপাশি সেখানে রয়েছে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন। শার্লিনের চরিত্রটি মূলত পরিবার থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্বাধীনতা খোঁজার গল্পকে ঘিরে আবর্তিত।

অভিনয় থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শার্লিন বলেন, একদিকে যেমন আরাম ছিল, অন্যদিকে একটা শূন্যতাও কাজ করেছে। তাঁর মনে হয়েছে, যে জায়গায় তিনি কাজ করেছেন, যেখানে তাঁর অবস্থান ছিল, সেটি যেন নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, পারিবারিক জীবন সবারই প্রয়োজন, কিন্তু কর্মজীবন ছাড়া কোনো জীবন পূর্ণতা পায় না। কর্মেই মুক্তি, কর্মেই স্বাধীনতা, আর কর্মের মাধ্যমেই নিজের মতো করে বেঁচে থাকা সম্ভব।

কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই প্রশ্নের উত্তরে শার্লিন বলেন, বিয়ের আগে তাঁর মধ্যে নায়িকা হয়ে থাকার চাপ কাজ করত। সবসময় নায়িকা লুকে থাকতে হবে, চুল ও চেহারা সুন্দর রাখতে হবে এই মানসিকতা তাঁকে তাড়া করত। কিন্তু বিয়ের পর সেই চাপ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এখন আর কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। তিনি মনে করেন, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে আরও বৈচিত্র্যময়ভাবে তুলে ধরতে পারবেন। ভ্যাম্প, খলচরিত্র, হরর কিংবা সায়েন্স ফিকশন সব ধরনের চরিত্রেই তিনি কাজ করতে আগ্রহী। এমনকি মজার ছলে বলেন, সুযোগ পেলে এলিয়েন চরিত্রেও কাজ করতে চান।

নায়িকা হয়ে থাকার চাপ কেন কাজ করত এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন জানি মনে হতো ব্যক্তিজীবনেও তাঁকে নায়িকা হয়ে থাকতে হবে। তবে বিয়ের পর জীবনে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন মনে হয়, একটি চরিত্রের জন্য মহড়া করে কাজ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগে অল্প সময়ে অনেক নাটকে অভিনয় করার তাড়াহুড়া থাকলেও এখন তিনি চলচ্চিত্রের মতো বড় ক্যানভাসে কাজ করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিয়ে ও সংসারজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ে প্রভাব ফেলেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একেবারেই তাই। তাঁর স্বামী এহসান জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছেন। তিনি খুব পরিণত একজন মানুষ, আর তাঁর জন্যই শার্লিন এখন অনেক বেশি ব্যালান্সড ও পরিণত হয়েছেন। আগে যেখানে তিনি অপরিণত ছিলেন, এখন সেসব বদলে গেছে।

বর্তমান জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য সুন্দরভাবে বাঁচতে চান। জীবনে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেন। শুধু নিজে ভালো থাকার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এখন তিনি পরিবার ও সন্তানসহ সবার জন্য সুন্দর জীবন গড়তে চান। পরিকল্পনা করে চলতে তাঁর ভালো লাগে, আর সেই পরিকল্পনাতেই তিনি ভবিষ্যৎ সাজাচ্ছেন।

দুই সন্তানের মা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি খোলামেলা কথা বলেন। শার্লিন জানান, বিয়ের জন্য তিনি কখনোই প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জীবনে অদ্ভুত এক অনুভূতির জন্ম হয়। সন্তানের স্পর্শ তাঁকে অন্য রকম আনন্দ দেয়। সন্তান জন্মের পর থেকে একটি দিনও তিনি খারাপ কাটাননি। মা হওয়ার পর তাঁর জীবনযাত্রা বদলে গেছে। আগে কোনো কিছু করার আগে তেমন ভাবতেন না, কিন্তু এখন প্রতিটি কাজের আগে তিনি বারবার চিন্তা করেন।

ভবিষ্যতে দর্শক তাঁকে কেমন চরিত্রে দেখতে পাবেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নানা রকম চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। হয়তো শুরুতে কেউ কেউ হতাশ হতে পারেন। এমনকি তাঁর স্বামীও অবাক হন, যখন তিনি বলেন, আইটেম সং করতেও তাঁর আপত্তি নেই। শার্লিনের ভাষায়, যদি গল্প ও গান ভালো হয় এবং চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে যায়, তবে কেন নয়? তিনি নুসরাতের ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘চাঁদমামা’ গানের উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর ফিগার ও উপস্থিতি যদি মানিয়ে যায়, তবে তিনি এমন কাজ করতেও আগ্রহী। এর পাশাপাশি একটি নতুন বাণিজ্যিক সিনেমাতেও তাঁকে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে সেই ছবির জন্য অডিশনও দিয়েছেন তিনি।