এক সময় বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন প্রীতি জিনতা। প্রাণবন্ত অভিনয়, হাসি আর পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের সাফল্যের মধ্যগগনেই হঠাৎ করেই অভিনয় থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন প্রীতি জিনতা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন।

বিয়ের পর ধীরে ধীরে অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দেন প্রীতি। পরে মা হওয়ার পর সন্তান ও পরিবারের জন্যই নিজের সময়কে প্রাধান্য দেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলকানি থেকে দূরে সরে গিয়ে সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্বকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বেছে নেন এই বলিউড তারকা।

অভিনয় থেকে বিরতিতে থাকলেও পুরোপুরি কর্মজীবন থেকে সরে যাননি প্রীতি। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন উদ্যোক্তা উদ্যোগে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারকে সময় দিয়ে জীবনের নতুন এক অধ্যায় উপভোগ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই সময়টুকু ছিল জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভাইয়াজি সুপারহিট’ সিনেমায় সানি দেওলের বিপরীতে দেখা গিয়েছিল প্রীতিকে। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে এই সিনেমাতেও তাঁর সহশিল্পী সানি দেওল।

সম্প্রতি সিনেমাটির প্রচারণামূলক এক অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ বিরতি নিয়ে প্রীতি বলেন, ‘সত্যি বলতে সিনেমাতে কাজ খুব বেশি মিস করিনি। বরং পরিবারের সঙ্গে এই সময়টা দারুণভাবে উপভোগ করেছি। কারণ এটি ছিল আমার জীবনের একেবারে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা।’

মাতৃত্বের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘সন্তানের জন্ম দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলস্টোন। শুধু মা হওয়াই নয়, সন্তানকে বড় করে তোলা, তাদের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত কাটানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি মনোযোগ দেওয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’

প্রীতির মতে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। ক্যারিয়ারের সাফল্যের মতোই পরিবার, মাতৃত্ব ও সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময়টাও সমান মূল্যবান। তাই অভিনয় থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। বরং সেই সময়টুকুই তাঁকে নতুনভাবে জীবনকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।

দীর্ঘ আট বছর পর প্রিয় অভিনেত্রীকে আবারও বড় পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা। নতুন সিনেমার মাধ্যমে প্রীতি জিনতা কতটা সফল প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।