যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৫ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন একসময়কার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার একদিন পরই গুলশানের বাসায় তাকে দেখতে যান বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর। নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আলমগীর সেখানে পৌঁছান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে সময় কাটান।
লিটন এরশাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। আড্ডার বেশিরভাগ সময়জুড়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্র জীবনের নানা স্মৃতিও ভাগাভাগি করেন দুজন। অসুস্থতার কারণে অনেক বিষয়ই এখন মনে করতে পারেন না ইলিয়াস কাঞ্চন। আলমগীর সেসব স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন এবং দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে টিউমারের পুরো অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপির বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন তিনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় একশ কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষ হলেও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। লিটন এরশাদ জানান, বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছা থেকেই কয়েক মাসের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত ৩০ জুলাই তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হয়েছে। কিছুদিন দেশে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর আবারও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার এখনো আগের স্থানেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি, যা ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা বলতে এখনো বেশ কষ্ট হয়। ধীরে ধীরে কথা বললেও অনেক সময় একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতে পারেন না। খাবার খাওয়াও মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও আগের মতো নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে পারছেন না।