চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তিনি প্রয়াত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকে উৎসর্গ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। এবার ৯ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এই পদকে ভূষিত হচ্ছে। পদকপ্রাপ্তির খবর শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ববিতা বলেন, দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়েছি এতেই আমি খুব খুশি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই মোবাইল ফোনে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দন বার্তা পাচ্ছেন তিনি।

ববিতা আরও বলেন, মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন। জীবদ্দশায় এমন একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। রাষ্ট্রের প্রতি এবং যারা আমাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার অভিনয়জীবনের শুরু। ছবিটিতে তিনি রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা। তাই আমার একুশে পদকটি তাকেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।

১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হন ববিতা। পরের বছর ‘নয়নমণি’ এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য একই সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। পরে ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে) ও ‘কে আপন কে পর’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেত্রী।

ভক্ত-দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ববিতা বলেন, তারা সব সময়ই আমার কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমি আজকের ববিতা। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি, যারা তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই পাশে ছিলেন।

চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন ববিতা। অস্কারজয়ী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনিসংকেত’ সিনেমায় অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয় করে দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।